আসন্ন ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করবেন। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলায় প্রায় ৪ কোটি মানুষ যাতায়াত করবেন। এমনটাই ধারণা করছে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সড়কপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি ১২ দফা সুপারিশ জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার জোরদারের দাবি জানিয়েছে। গতকাল সোমবার সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে এক কোটিরও বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করবেন। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলা পর্যায়ে প্রায় চার কোটি মানুষের যাতায়াতের সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে পরিবহনের মতো পর্যাপ্ত মানসম্মত গণপরিবহন না থাকায় অনেক যাত্রী ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ যানবাহনে যাত্রা করতে বাধ্য হন। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানো এবং যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংগঠনটির সুপারিশগুলো হলো- ১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ছাত্র-যুবদের সম্পৃক্ত করে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। ২. মানুষকে নিরাপদ ঈদ যাত্রায় উৎসাহিত করতে টেলিভিশনে এবং বিটিআরসির মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। ৩. সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার পরিবহন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে মানসম্মত গণপরিবহনের ঘাটতি অনেকটা পূরণ হবে। ৪. ত্রুটিপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৫. সিটি সার্ভিস বাস মহাসড়কে চলাচল রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৬. সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি রোধে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৭. রাতের বাসে ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার করতে হবে। ৮. সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পিড ব্রেকার, সাইন-মার্কিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে। ৯. ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে। ১০. ঈদে ঘরমুখী এবং ফিরতি যাত্রায় শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ১১. সড়কে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। ১২. দেশের সব হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদার করতে হবে।
সংগঠনটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ড. কামরান উল বাছেত, আব্দুল্লাহ মো. ফেরদৌস খান এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের কাছে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

