দণ্ডিত ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের নামে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গতকাল শুক্রবার সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
বিবৃতিতে এ অপকর্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ ও বর্বর নির্যাতনের শিকার কয়েক লাখ নারীর আত্মত্যাগের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, একাত্তরে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, তাদের মতাদর্শ ও উত্তরাধিকার বহন করা ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন দলে থাকা তাদের তল্পিবাহক গোষ্ঠীর লোকেরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আসন গ্রহণ করে দ-িত ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে গতকাল (বৃহস্পতিবার) যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। দেশের মানুষ এটা কখনোই ভুলবে না।
এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। এর মধ্য দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে মনে করছে ছাত্র ইউনিয়ন।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা লক্ষ করলাম, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন না করে সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করা হলো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করে জনগণের ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার সম্মতি দিল, যা জনগণের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি মূলত তাদের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গী করে চলার যে পুরোনো নীতি, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটাল। আমরা দ-প্রাপ্ত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মুক্তিযুদ্ধ এই জাতির, এই ভূখ-ের সবচেয়ে গৌরবান্বিত অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধকে হেয় প্রতিপন্ন করা হলে জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন