× UCB Sticker Card
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

ডিজিটাল অর্থনীতি (শেষ)

এআই উত্থান, বাড়ছে প্রতারণার সাম্রাজ্য

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গত দুই বছরে বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিস্তার ঘটেছে নজিরবিহীনভাবে। সংবাদমাধ্যম থেকে ব্যাংক, কল সেন্টার থেকে সফটওয়্যার কোম্পানি, হাসপাতাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় সব খাতেই দৈনন্দিন কাজে যুক্ত হচ্ছে এআই। গ্রাহকসেবা, বিপণন, হিসাবরক্ষণ, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট তৈরি, অনুবাদ ও ডেটা বিশ্লেষণসহ অসংখ্য কাজে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বাড়াচ্ছে এআইয়ের ব্যবহার। ফলে যেমন নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি বদলে যাচ্ছে বহু প্রচলিত পেশার ধরন।

কিন্তু রূপালী বাংলাদেশের কয়েক মাসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক বাস্তবতা। দেশে এআই ব্যবহারের বিস্তার ঘটলেও সরকার জানে না ঠিক কত প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে, কত মানুষ এআইনির্ভর নতুন পেশায় যুক্ত হয়েছেন, কত কর্মসংস্থান প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মুখে পড়েছে কিংবা এআই অর্থনীতির প্রকৃত আকার কত। একই সময়ে ভয়েস ক্লোনিং, ডিপফেক, এআইনির্ভর ফিশিং, ওটিপি জালিয়াতি, ভুয়া বিনিয়োগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রতারণা উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও এসব অপরাধেরও কোনো সমন্বিত জাতীয় পরিসংখ্যান বা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ নেই। 

অনুসন্ধানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), সফটওয়্যার শিল্পের উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, এআই বিশেষজ্ঞ, সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, এআই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একদিকে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, দক্ষ জনবল, আইনগত প্রস্তুতি ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তৈরি করছে বড় ধরনের শূন্যতা। 

দেশে এআই অর্থনীতির পরিধি দ্রুত বাড়ছে : গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ট্র্যাক্সন, টেকবেহেমথস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিজনেস ডিরেক্টরির তথ্য বিশ্লেষণ করে রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিংভিত্তিক সেবা দেওয়া নিবন্ধিত স্টার্টআপ ও আইটি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮০ থেকে ১০০টির বেশি। এর বাইরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) আওতাধীন প্রায় সব বড় সফটওয়্যার কোম্পানিই এখন কোডিং, সফটওয়্যার টেস্টিং, অটোমেশন এবং কাস্টম প্রজেক্টে বিভিন্ন ধরনের এআই টুল ব্যবহার করছে। 

টেলিনর এশিয়ার ২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৬২ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে এআই ব্যবহার করছেন। দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর, ২০টিরও বেশি ব্যাংক, ৩০টির বেশি কল সেন্টার এবং অধিকাংশ শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের ব্যাক-অ্যান্ড অপারেশন, গ্রাহকসেবা ও ব্যাবসায়িক বিশ্লেষণে এআই সংযুক্ত করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার পেশাজীবী সরাসরি এআই ও মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ডেটা লেবেলিং, কম্পিউটার ভিশন এবং প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিশেষায়িত পেশায় কাজ করছেন। অন্যদিকে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, কপিলট, ক্লাউডেমন বিভিন্ন জেনারেটিভ এআই টুল নিয়মিত ব্যবহারকারী পেশাজীবীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এআই, অটোমেশন ও এআইভিত্তিক সফটওয়্যার সেবার বাজার ইতোমধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি দেশের প্রযুক্তি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

বদলে যাচ্ছে চাকরির বাজার : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে যেমন কর্মসংস্থানের ধরনে পরিবর্তন আসছে, তেমনি বাংলাদেশেও অন্তত ছয়টি খাত সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সফটওয়্যার কোম্পানি, মানবসম্পদ (এইচআর) পরামর্শক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডেটা এন্ট্রি, কল সেন্টার, কাস্টমার সাপোর্ট, সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং, জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং প্রাথমিক পর্যায়ের গ্রাফিক ডিজাইনের মতো পেশাগুলোতে এআই ধীরে ধীরে মানুষের কাজের জায়গা দখল করছে। ফলে নতুন নিয়োগের ধরন বদলাচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে একই কাজ কম জনবল দিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ডেটা এন্ট্রি খাতে এআইচালিত অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন এবং অটোমেশন সফটওয়্যার এখন কয়েক হাজার পৃষ্ঠার তথ্য, বিল, রসিদ বা আবেদনপত্র কয়েক মিনিটেই ডেটাবেজে রূপান্তর করতে পারে। ফলে শুধু তথ্য টাইপিং বা ইনপুটনির্ভর কাজের জন্য ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের চাহিদা দ্রুত কমছে। 

একইভাবে কাস্টমার সাপোর্ট ও কল সেন্টার খাতেও পরিবর্তন স্পষ্ট। উন্নত এআই চ্যাটবট ও ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট এখন গ্রাহকের সাধারণ প্রশ্ন, বুকিং, অভিযোগ কিংবা প্রাথমিক সেবা দেওয়ার বড় অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় আকারের কল সেন্টারের পরিবর্তে সীমিতসংখ্যক দক্ষ কর্মী রেখে জটিল সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে। জেনারেটিভ এআইয়ের বিস্তারের কারণে সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং ও কপিরাইটিংয়ের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। চ্যাটজিপিটি, ক্লাউড ও জেমিনির মতো প্ল্যাটফর্ম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিজ্ঞাপনের কপি, ই-মেইল, ব্লগ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট তৈরি করতে পারছে।

জাতীয় এআই নীতিমালার প্রস্তুতি, তবে নেই পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ প্রযুক্তি পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ‘জাতীয় এআই নীতিমালা ২০২৬-৩০’ চূড়ান্ত করার কাজ করছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালার খসড়া ইতোমধ্যে সংশোধন করে প্রকাশ করা হয়েছে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এ বিষয়ে গণপরামর্শ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্প শুরু হবে এবং ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে নীতিমালাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইন অনুসরণ করে বাংলাদেশও ঝুঁকিভিত্তিক চার স্তরের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিষিদ্ধ, উচ্চ-ঝুঁকি, সীমিত-ঝুঁকি ও কম-ঝুঁকি প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে।

জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমানে দেশে বেসরকারি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের কোনো কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান বা লাইভ ডেটাবেজ সরকারের কাছে নেই। তবে প্রস্তাবিত জাতীয় এআই নীতিমালার আওতায় একটি ‘ন্যাশনাল এআই রেজিস্ট্রি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকির এআই সিস্টেম তৈরি বা ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি জানান, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইসিটি বিভাগের কয়েকটি সরকারি প্রকল্পে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ব্যবহারের তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বিদেশি এআই সেবায় বাড়ছে ডলার ব্যয় : অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এআই শুধু নতুন প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না; বরং বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে এআই সংযুক্ত করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়ও কমাচ্ছে। তবে এর সঙ্গে বাড়ছে বিদেশি এআই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের চাপ। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দেশের ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ অপারেটর, সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এবং বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো বর্তমানে বিদেশি এআই প্ল্যাটফর্ম ও ক্লাউডভিত্তিক সেবা ব্যবহারে বছরে আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা) ব্যয় করছে। তার ভাষায়, ‘দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার উন্নয়নে বিনিয়োগ না করে শতভাগ বিদেশি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে আগামী বছরগুলোতে এই বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় আরও দ্রুত বাড়বে।’ তিনি বলেন, এআই সফটওয়্যার শিল্পে একদিকে নতুন ধরনের কর্মসংস্থান তৈরি করছে, অন্যদিকে প্রচলিত কিছু পদের চাহিদা ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নেক্সাডেভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাফিজ লতিফী বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে বিভাগভেদে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ কোনো না কোনোভাবে এআইয়ের সহায়তায় সম্পন্ন হচ্ছে। সফটওয়্যার কোডিং, বাগ শনাক্তকরণ ও টেস্টিংয়ের মতো ক্ষেত্রে গিটহাব, কপিলট, আই ক্লাউডের মতো এআই সহকারী ব্যবহার করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তিনি বলেন, এই সাশ্রয় কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে নয়; বরং একই জনবল দিয়ে কম সময়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এম. আবু ইউসুফ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে। তার মতে, সঠিক নীতি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এআই সেবা, উৎপাদন ও আর্থিক খাতের দক্ষতা বাড়িয়ে আগামী কয়েক বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে। 

এআইয়ের সুযোগের পাশাপাশি বাড়ছে ডিজিটাল প্রতারণার সাম্রাজ্য : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেমন নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত বিস্তার ঘটছে সাইবার প্রতারণার নতুন নতুন কৌশলের। রূপালী বাংলাদেশের অনুসন্ধানে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভয়েস ক্লোনিং, ডিপফেক ভিডিও, এআইভিত্তিক ফিশিং, ওটিপি জালিয়াতি, ভুয়া বিনিয়োগের প্রলোভন, ফেসবুক প্রতারণা, নকল চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য এআই সাবস্ক্রিপশন ওয়েবসাইট এবং এআইচালিত ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বাংলাদেশ পুলিশ, সিআইডি এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মাসে অনলাইন প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিআইডি ইতোমধ্যে ডিজিটাল অপরাধচক্রের ৪২১টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করে প্রায় ৩২৯ কোটি ২১ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করেছে। একই সময়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) জালিয়াতির একাধিক ঘটনায় একজন ভুক্তভোগীর সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি সম্প্রতি এআইভিত্তিক ডিপফেক, ভয়েস ক্লোনিং এবং ফিশিং আক্রমণ নিয়ে একাধিক সতর্কবার্তা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও ডিজিটাল ব্যাংকিং জালিয়াতি প্রতিরোধে ১৭ দফা নির্দেশনা এবং এনআইডিভিত্তিক হিসাব ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।

জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান অতিরিক্ত আইজি সরদার নুরুল আমিন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এআই ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ শনাক্ত ও তদন্তে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, এআই এখন সাইবার অপরাধীদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। আগে প্রতারণামূলক ই-মেইল ভাষা বা বানানের ভুল দেখে শনাক্ত করা যেত। এখন জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে নিখুঁত ভাষায় এমন ই-মেইল তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর পক্ষে চেনা প্রায় অসম্ভব। একইভাবে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অডিও নমুনা ব্যবহার করে যেকোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা সম্ভব হচ্ছে। সেই কণ্ঠ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্য, ব্যাংক কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচয়ে ফোন করে ওটিপি, পাসওয়ার্ড কিংবা অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে ডিপফেক প্রযুক্তি। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর মুখ ও কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, ব্ল্যাকমেইল, এমনকি আর্থিক প্রতারণাও করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের ছবি ব্যবহার করে এআইনির্ভর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!