× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

নারী ক্রেতায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

নারী ক্রেতায় জমে  উঠেছে ঈদ বাজার

পবিত্র মাহে রমজান বিদায়ের পথে। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার লাকসামে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদবাজার। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। এবার নারী ক্রেতায় ভরপুর হয়ে উঠেছে ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় বিপণিবিতান।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদ বাজারে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার পোশাক বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে তারা বেচাকেনা করছেন। পাশাপাশি ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেও ঈদের কেনাকাটা জমজমাট হয়ে উঠেছে। এসব প্ল্যাটফর্মে ঘরে বসেই পোশাক, জুতা ও গহনার অর্ডার দিচ্ছেন ক্রেতারা। এতে স্থানীয় ঈদ বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অনলাইন কেনাকাটা না থাকলে এবারের ঈদ বাজারে পোশাক বিক্রি প্রায় শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারত।

অন্যদিকে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে শহরের বড় বড় শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা। রঙিন বাতির ঝলকানিতে পুরো বাজার এলাকা এখন আলোকোজ্জ্বল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার কারণে ক্রেতারা কেনাকাটায় বাড়তি আনন্দ পাচ্ছেন, যা বিক্রিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এবারের বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেশীয় পোশাকের আধিপত্য। অন্যান্য বছর ভারতীয় সিরিয়াল ও নায়িকাদের নামে বিভিন্ন পোশাক জনপ্রিয় হলেও এবার বাজারে সেগুলোর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে দেশীয় ডিজাইনের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লাকসাম পৌর শহরের হাজি মোকছোদ আলী টাওয়ার, আলহাজ চাঁন মিয়া টাওয়ার, পাইওনিয়ার সুপার মার্কেট, বিএস টাওয়ার, ভূঁইয়া টাওয়ার, রেডিমেড সেন্টার, স্টাইল, এবি টাওয়ারসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পছন্দের পোশাক ও ঈদের অনুষঙ্গ খুঁজে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। ফলে তাদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। এসব মার্কেটে পুরুষ ক্রেতার তুলনায় নারী ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। তারা পছন্দের পোশাক কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ঘুরছেন।

হাজি মোকছোদ আলী টাওয়ারের রাজকুমারী শাড়ি মহলের স্বত্বাধিকারী মো. শাহজাহান শেখ দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নারী ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে প্রতিবারের মতো এবারও ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের থ্রি-পিস, শাড়ি ও কাটা কাপড়ের সমাহার রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর কাপড়ের মান ঠিক রেখে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক বিক্রি করে থাকি। নিত্যনতুন ডিজাইন ও মানসম্মত কাপড় হওয়ায় আমাদের বেচাকেনাও আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়।’

গরমকে সামনে রেখে তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে থ্রি-পিস, সারারা, গারারা, নায়রা ও গাউন, লেডিজ টপস এবং বিভিন্ন ডিজাইনের কুর্তি-প্যান্ট। এসব পোশাকের দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যেও ভালো মানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে, যা অনেক ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানগুলোতেও ঈদকে কেন্দ্র করে ইফতারের পর থেকেই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। এসব দোকানে বাহারি ডিজাইনের চুড়ি ও জুয়েলারি আইটেমের বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

তরুণদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে পাঞ্জাবি, জিন্স, জগার্স প্যান্ট, শার্ট ও গেঞ্জি। তরুণীদের পোশাক দেড় হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ছোটদের পোশাকেও রয়েছে ভিন্নতা। মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে লং ফ্রক ও পার্টি ফ্রক। এ ছাড়া লেহেঙ্গা ও লং কামিজের চাহিদাও রয়েছে। ছেলে শিশুদের মধ্যে সুতি টি-শার্ট ও বেবি স্যুটের চাহিদা বেশি।

বিক্রেতারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিটি দোকানে দৈনিক গড়ে ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সামনে আরও বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নাঙ্গলকোট থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা এক দম্পতি জানান, সন্তানদের জন্য পোশাক কিনতে এসে দেখছেন ২ হাজার টাকার নিচে ভালো মানের পোশাক পাওয়া কঠিন। পরিবারের কর্তা বলেন, ‘পরিবারকে খুশি করতে চাই, কিন্তু গত বছরের তুলনায় পোশাকের দাম ৩০০-৫০০ টাকা বেশি হওয়ায় বাজেটের সঙ্গে তাল মিলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবে কিছু ক্রেতা দাম বাড়লেও মানের কারণে সন্তুষ্ট।

রিকশাচালক শাহ আলম জানান, পরিবারের জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন। বড় মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় তিনি ফুটপাত থেকেই কেনাকাটা করার চেষ্টা করছেন। লাকসাম হকার্স মার্কেটের বিক্রেতা সাইমুন বলেন, ‘শুধু স্বল্প আয়ের মানুষই নয়, মধ্যবিত্তরাও আমাদের কাছ থেকে পছন্দের কাপড় কিনছেন। বিক্রিও বেড়েছে। তবে এবার ভিড় আগের তুলনায় বেশি।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!