আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও গায়েবের নেপথ্যে হার্ডড্রাইভ বদল করা হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। গায়েব হওয়া সেই ভিডিও প্রযুক্তি ব্যবহার করেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি; বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাইব্যুনালের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে জানানো হয়েছে। গতকাল বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা।
তানভীর জোহা জানান, গত বছরের ১৩ অক্টোবর সিসি ক্যামেরা থেকে গায়েব হওয়া ফুটেজ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেও উদ্ধার করা যায়নি। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিমের কক্ষে আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো মামলার আসামি আফজালুলের পরিবারের এক সদস্য টাকার ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন আরেক প্রসিকিউটর বিএম সুলতান। সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, তা যাচাই করতে গত বছরের ১৩ অক্টোবরের সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ করতে যান প্রসিকিউশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাসুদ রানা। কিন্তু তিনি দেখতে পান, নির্দিষ্ট ওই দিনের ভিডিও হার্ডড্রাইভে নেই।
গায়েব হওয়া ওই ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্যেও উদ্ধার করা যায়নি জানিয়ে তানভীর জোহা গতকাল ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘প্রাথমিক অবস্থায় আমরা জানতে পেরেছি, সিসলগগুলোতে যে হার্ডড্রাইভগুলো থাকার কথা ছিল, সেখানে পুরোনো-নতুন কিছু হার্ডড্রাইভ রিপ্লেস হয়েছে। সিসলগ এবং রেজিস্ট্রার খাতাতেও আমরা প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি দেখতে পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা তদন্তাধীন বিষয়। আমরা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেছি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে এবং রেকমেন্ডেশন করবে। সুতরাং আমি এ বিষয়ে অগ্রিম মন্তব্য করতে পারছি না।’ হার্ডড্রাইভ বদলের ঘটনাটি গত বছরের বলে জানালেও নির্দিষ্ট তারিখ মনে করতে পারেননি জোহা। এ ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো জিডির তথ্য আমার কাছে এই মুহূর্তে জানা নেই।’
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানের ‘হ্যাক হওয়া’ ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট উদ্ধার : ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের হ্যাক হওয়া ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের কথাও জানান তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জোহা। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হ্যাকারদের শনাক্ত করতে পারলেও এখনো তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি।’
হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তানভীর জোহা বলেন, ‘আইপি অ্যাড্রেসটা কী ছিল সেটা আমরা প্রকাশ করতে চাই না। যেহেতু এটি একটি আইনি প্রক্রিয়াধীন বিষয়, সুতরাং আইনসম্মত উপায়ে আইপি অ্যাড্রেসটি পাওয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলাই সঠিক হবে বলে আমি মনে করি।’
বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের ব্যক্তিগত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগে গত ২৪ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সেখানে বলা হয়, ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে সক্রিয় ব্যক্তিগত ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলো গত ১৮ মার্চ ‘হ্যাক করা হয়’।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন