× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

প্রবাস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

সৌদি প্রবাসীদের স্বস্তির নিশ্বাস

প্রবাস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

সৌদি প্রবাসীদের স্বস্তির নিশ্বাস

মরুর দেশ সৌদি আরবে ভাগ্য অন্বেষণে যাওয়া হাজারো বাংলাদেশি শ্রমিকের জীবনে মাঝে মধ্যেই নেমে আসে আইনি জটিলতার কালো মেঘ। কখনো কফিলের (নিয়োগকর্তা) সঙ্গে সমস্যা, কখনো বা পরিস্থিতির ফেরে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াÑ এমন হাজারো সংকটে প্রবাসীরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনথিভুক্ত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারী বাংলাদেশিদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস।

কোনো প্রকার জরিমানা বা জেল-জুলুমের ভয় ছাড়াই নিজ দেশে ফেরার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কেন এই বিশেষ ঘোষণা?

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত ব্যবস্থায় কিছু জটিলতার কারণে অনেক বিদেশি নাগরিক সৌদি আরবে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশ ছাড়তে পারেননি। বিশেষ করে যারা ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন কিংবা ভ্রমণ ভিসায় সেখানে অবস্থান করছিলেন, তারা পড়েছেন বিপাকে। নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি আরবে ভিসার মেয়াদ একদিন পার হলেও গুনতে হয় মোটা অংকের জরিমানা। সেই সঙ্গে থাকে আইনি ব্যবস্থা ও কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ভয়। এই মানবিক সংকট বিবেচনা করে সৌদি সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের পর যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের কোনো প্রকার দ- ছাড়াই মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। গত সোমবার রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই স্বস্তিদায়ক খবরটি নিশ্চিত করেছে।

কারা পাচ্ছেন এই বিশেষ সুবিধা?

এই সুবিধার আওতা বেশ বিস্তৃত। দূতাবাস জানিয়েছে, মূলত চার ক্যাটাগরির ভিসাধারী এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় পড়বেন : ১. ভিজিট বা ভ্রমণ ভিসাধারী : যারা ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সৌদি আরবে গিয়ে আটকা পড়েছেন। ২. ওমরাহ ভিসাধারী: পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য গিয়ে যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরতে পারেননি। ৩. ট্রানজিট ভিসাধারী : অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পথে সৌদি আরবে যাত্রাবিরতি কালীন যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ৪. ফাইনাল এক্সিট ভিসাধারী : যাদের চূড়ান্ত বহির্গমন বা ফাইনাল এক্সিট লেগেছিল কিন্তু পরিস্থিতির কারণে বিমানে উঠতে পারেননি।

শর্ত একটাই : আপনার ভিসার মেয়াদ অবশ্যই ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের পর শেষ হতে হবে। এর আগে যাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হয়রানি ছাড়াই প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া

সাধারণত প্রবাসীদের মনে একটি বড় ভয় থাকে যে, এক্সিট পারমিট বা জরিমানা ছাড়া এয়ারপোর্টে গেলে তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করবে। কিন্তু এবারের বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ায় কোনো বাড়তি ঝক্কি নেই।

সরাসরি বিমানবন্দর : যোগ্য প্রবাসীদের আগে থেকে কোনো ইমিগ্রেশন অফিস (জাওয়াজাত) বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

বিমানের টিকিট : আপনি যদি নির্ধারিত ক্যাটাগরির মধ্যে পড়েন, তবে কেবল বিমানের টিকিট বুক করলেই হবে।

জরিমানা মওকুফ : বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে পৌঁছালে আপনার পাসপোর্ট চেক করে কোনো অর্থ দাবি না করেই এক্সিট সিল দিয়ে দেওয়া হবে।

এটি মূলত একটি ‘উইন্ডো অফ অপরচুনিটি’ বা সুযোগের জানালা, যা কেবল নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই খোলা থাকবে।

সময়সীমা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা

যেকোনো সুযোগের সঙ্গেই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন থাকে। এই সুবিধার ক্ষেত্রে সেই শেষ সময়টি হলো ১৮ এপ্রিল ২০২৬। অর্থাৎ, আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে অবশ্যই সৌদি আরবের সীমানা ত্যাগ করতে হবে। দূতাবাস বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছে, এই সময়সীমা পার হওয়ার পর কেউ যদি সৌদি আরবে ধরা পড়েন, তবে তাকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে :

ভারী আর্থিক জরিমানা : যা কয়েক হাজার রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

জেল বা হাজতবাস : অবৈধ অবস্থানের দায়ে নির্দিষ্ট মেয়াদে কারাদ-।

কালো তালিকাভুক্তি (ইষধপশষরংঃবফ) : একবার এই তালিকায় নাম উঠলে পরবর্তী ১০ বছর বা আজীবনের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের বিশেষ পরামর্শ

রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জেদ্দার কনস্যুলেট জেনারেল থেকে প্রবাসীদের প্রতি বেশ কিছু অনুরোধ জানানো হয়েছে :

কাগজপত্র যাচাই : টিকিট কাটার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার ভিসার ধরন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার সঠিক তারিখ।

সময় হাতে রাখা : শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে ১৮ এপ্রিলের অন্তত এক সপ্তাহ আগেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করুন।

দালাল থেকে সাবধান : এই প্রক্রিয়ায় কোনো বাড়তি টাকা বা তদবিরের প্রয়োজন নেই। কেউ যদি জরিমানা মওকুফ করে দেওয়ার নাম করে টাকা চায়, তবে বুঝবেন সেটি প্রতারণা।

যোগাযোগ : কোনো বিভ্রান্তি দেখা দিলে সরাসরি দূতাবাসের হটলাইন বা ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

মানবিক দিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

সৌদি সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর নাগরিকদের প্রতি সৌদি আরবের একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। প্রবাস জীবন সংগ্রামের হলেও দেশের প্রতি টান সবারই থাকে। যারা আইনি জটিলতায় আটকে আছেন, তাদের জন্য এই সুযোগটি ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো। জরিমানার বোঝা ছাড়াই পরিবারের কাছে ফিরে আসার এই সুযোগ হেলায় হারানো উচিত নয়। ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরব ছেড়ে আইনিভাবে পবিত্র জীবন শুরু করার এটিই মোক্ষম সময়।

দূতাবাস আশা করছে, এই সুযোগ গ্রহণ করে হাজার হাজার বাংলাদেশি কোনো ঝামেলা ছাড়াই দেশে ফিরবেন এবং ভবিষ্যতে আবার বৈধ পথে সৌদি আরবে আসার পথ খোলা রাখবেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!