ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গ্রেপ্তার ৪

আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে কলেজছাত্র হত্যা 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৫:৪৩ এএম

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন একটি ভবনের আট তলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে দিয়ে আশফাক কবির সাজিদ (১৭) নামে এক কলেজছাত্রকে হত্যার অভিযোগে হওয়া মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ ভবনটির দারোয়ান এনামুল হক, আইমন, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েস। এর আগে গত ১২ এপ্রিল রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মীয়মাণ ভবনের লিফটের খালি জায়গা থেকে সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, পূর্ববিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

মৃত আশফাক কবির সাজিদ চট্টগ্রাম নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার আবুল হাশেম খন্দকারের ছেলে। তারা বাকলিয়া ডিসি রোডে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাজিদকে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন সাজিদকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সাজিদ কৌশলে তাদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে চকবাজার থানার ডিসি রোডের মৌসুমি আবাসিকের আমিন অ্যান্ড হাসান ম্যানশনের ৮ তলা ভবনে প্রবেশ করেন। ভেতর থেকে ভবনের গেট আটকে দিয়ে তিনি অষ্টম তলায় উঠে যান। পেছনে ধাওয়া করা তরুণরা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দারোয়ানকে বলে তারা গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর আট তলায় উঠে সাজিদকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং লিফটের খালি জায়গায় ফেলে দেন। এ সময় স্থানীয়রা সাজিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে কল দেন। পরে পুলিশ গিয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাজিদের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, আমার ছেলে মেধাবী ছিল। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাকে কেন হত্যা করা হলো? খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ বলেন, সাজিদ হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে গত সোমবার সাতজনের নামে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় ভবনটির দারোয়ান এনামুল হকসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।