সিরাজগঞ্জের তাড়াশ-কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের উত্তর ওয়াপদা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ তিন বছরেও সম্পূর্ণ হয়নি। সেতুর মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের জুন মাসে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় থেমে থেমে প্রায় তিন বছরে মূল সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়। তবে এখনো সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। সংযোগ সড়কে কাদা-মাটির কারণে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। প্রায়ই ছোট যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেতুর দুই পাশে নরম মাটিতে ভরাট থাকায় যানবাহনের চাকা দেবে যায়, অনেক সময় অটোরিকশা উল্টেও পড়ে।
তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাফর ইকবাল বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। ঝুঁকি নিয়েই তাদের চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করা জরুরি।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ভ্যান বা অটোরিকশা নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে গাড়ি তুলতে হয়। বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।’
অটোরিকশাচালক মো. কাওছার হোসেন জানান, ‘এক সঙ্গে দুটি গাড়ি চলাচল করতে পারে না। এতে আয় কমে গেছে, ভোগান্তিও বেড়েছে।’ এলাকার কৃষকরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। ইরি ধান কাটার মৌসুমে কাদা-মাটির কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহনের চাকা আটকে যাচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর ইথেন এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড ও ডন এন্টারপ্রাইজ (জেভি) ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ পায়। পরে বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম গকুল কাজটি কিনে নেন। বর্তমানে মো. ওয়াহিদুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদার কাজটি পরিচালনা করলেও হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করে সেতুটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন