জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়েছে। এটা একটি গেরুয়া পতাকা। সেই গেরুয়া পতাকা বাংলাদেশের কাছে এসে গেছে। মুসলমানরা যদি সজাগ না থাকে, যদি ঈমানি শক্তি না থাকে, তাহলে এই পতাকা ঠেকানো কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে অনেক আলেম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও নানা কষ্টের মধ্যে ছিলেন।’
তিনি সমাজ পরিবর্তনে মসজিদভিত্তিক সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মসজিদের সঙ্গে স্কুল, হাসপাতাল ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম যুক্ত করা গেলে অসহায় মানুষ সহজে শিক্ষা, চিকিৎসা ও সহযোগিতা পাবে।’ বিশেষ করে এতিম, অসহায় নারী ও দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মসজিদ কমিটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ওই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ঘোষণা দেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মসজিদে পৌঁছালে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তার অনুসারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটে। এ সময় মসজিদের পেছনের ফটকের কাচের গ্লাস ভেঙে অন্তত পাঁচ মুসল্লি আহত হন। কাচের টুকরোয় কয়েকজনের হাত-পা কেটে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে মসজিদের ফ্লোরে রক্তের দাগও দেখা যায়।
মসজিদের খাদেম মিজানুর রহমান বলেন, ‘হুড়োহুড়ি করে ফটকের কাচ ভেঙে ফেলেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। মসজিদের শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়নি।’ একাধিক মুসল্লি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির কারণে মসজিদের পরিবেশ বিঘিœত হয়েছে। অনেক মুসল্লি সুন্নত নামাজ আদায় করতে পারেননি বলেও জানান তারা।
স্থানীয় মুসল্লিদের ভাষ্য, মসজিদটি সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হয় এবং খতিবের বয়ান শুনতে নিয়মিত মুসল্লিরা সেখানে নামাজ আদায় করেন। এদিন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু লোক মসজিদের ভেতরে স্লোগান দিতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘœ ঘটে। একাধিক মুসল্লি অভিযোগ করেন, মসজিদের ভেতরে হইচই, ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগানের কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে দরজার গ্লাস ভেঙে যায়।

