ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিসিকে মেয়র পদে আলোচনা

বাড়ছে এমদাদ চৌধুরীর জনপ্রিয়তা

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০২:৫১ এএম

আলোচনার মূল কাতারে উঠে এসেছেন তিনি। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির শর্টলিস্টে যে কয়টি নাম কাটছাঁট করে এসে থেমেছে, এমদাদ হোসেন চৌধুরী তাদের একজন। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সিলেটে সজ্জন হিসেবে তিনি পরিচিত। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্থানে অনেকেই তাকে ভাবছেন। নগরীর যেকোনো সংকটে ডাক পড়ে তার। সব মিলিয়ে সিসিক নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে জোর আলোচনায় আছেন এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে এমদাদ হোসেনের রয়েছে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক, গ্রহণযোগ্যতা ও শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ডাকে তিনি সাড়া দেন সমভাবে। ব্যক্তিগত সমস্যা হোক বা সামাজিক সংকটÑ সাধারণ মানুষের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট মহানগরের রাজনীতিতে তার শক্ত অবস্থানের মূল কারণ হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত অভিজ্ঞতা। তিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বরং বছরের ৩৬৫ দিন জনগণের পাশে থাকার রাজনীতি করেন, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, দল থেকে যদি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারেন। এরই মধ্যে তিনি সিলেটের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং আরিফুল হক চৌধুরীর ‘গুডবুকে’ জায়গা করে নিয়েছেন।

দলীয় একটি সূত্র জানায়, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ এমদাদ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তাদের মতে, সিলেট সিটির উন্নয়ন, নাগরিক সেবা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি একজন যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও পরীক্ষিত নেতা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমদাদ হোসেন চৌধুরীর সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার মানবিকতা ও সহজপ্রাপ্যতা। একজন জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিতÑ তার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তারা তাকে দেখেন। নগরীর বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ও আলোচনা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন পান কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মনোনয়ন পেলে সিলেটের মেয়র নির্বাচনে তিনি হবেন অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। এমদাদ হোসেন চৌধুরী এ মুহূর্তে প্রতিদিন চষে বেড়াচ্ছেন সিলেট মহানগরে। কোনো না কোনো এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে করছেন সভা-সমাবেশ। ব্যস্ত সময় পার করছেন দল গোছাতে।

অবশ্য সরাসরি প্রার্থী হওয়ার দাবি করছেন না এমদাদ হোসেন চৌধুরী। সেই ভার তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন দলের ওপর, সিনিয়র নেতাদের ওপর। দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে এমদাদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের একটি লক্ষ্য থাকে। সেটি হলোÑ মানবসেবা, দেশের সেবা করা। আমিও সেই লক্ষ্যে রাজনীতি করছি। নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য আমার দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আগামীতে দেশ ও মানুষের সেবার যেকোনো সুযোগ পেলে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। সিটি করপোরেশনে কে প্রার্থী হবেন বা কাকে দল প্রার্থী নির্বাচিত করবেÑ দলের সিদ্ধান্ত। আমি দলের প্রতি অনুগত। দল আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে। আবার অন্য কাউকে যোগ্য মনে করলে তাকে দেবে। আমরা দলের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব।

তবে দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদী এমদাদ হোসেন। তিনি বলেন, আমি মহানগর বিএনপিকে সাজাতে নিরলসভাবে কাজ করছি। দলকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূলের দুয়ারে যাচ্ছি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। আমি তার কর্মী। তার হয়ে দলের জন্য নিবেদিত। মানুষের জন্য কাজ করছি।