× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

হুমকিতে গ্রামীণ চিকিৎসাসেবা

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম

প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৩:২৯ এএম

হুমকিতে গ্রামীণ চিকিৎসাসেবা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থাকায় গ্রামীণ মানুষের কাছে এসব ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ওষুধ সংকট ও বরাদ্দ ঘাটতির কারণে প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফলে সাধারণ রোগীরা ক্লিনিকে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন এবং অনেককে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বাড়তি খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

লাকসাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে গত চার-পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষ, যারা বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভরশীল। ওষুধ সংকটে তারা এখন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ওষুধ না থাকায় রোগীর উপস্থিতিও কমে গেছে। ফলে অনেক কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও ক্লিনিকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। সব মিলিয়ে উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। দ্র”ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করে সেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্লিনিকেই প্রয়োজনীয় কোনো ওষুধ নেই। ফলে প্রতিদিন রোগীরা এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কোনো কোনো ক্লিনিকে দায়িত্বরত সিএইচসিপিরা রোগীদের শুধু মৌখিক পরামর্শ দিয়ে বিদায় করছেন। কবে নাগাদ ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছেন না তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ওষুধ না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ক্লিনিকগুলো। আগে যেখানে জ্বর, সর্দি-কাশি, আমাশয় ও সাধারণ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া যেত, এখন সেখানে প্রয়োজনীয় সেবা মিলছে না।

ওষুধ নিতে আসা হানিফ বলেন, ‘এই কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে আগে ভালো সেবা পেতাম। এখন ওষুধ না থাকায় বারবার এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।’ একই অভিযোগ রহিমা বেগমেরও। তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষের জন্য এই ক্লিনিকগুলো খুবই জর”রি। ওষুধ না থাকায় আমাদের কষ্ট বাড়ছে।’

সামছুর নাহার নামের এক রোগী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, বাইরে থেকে টাকা দিয়ে ওষুধ কেনা সম্ভব না। আগে এখানে বিনা মূল্যে ওষুধ পেতাম, এখন কিছুই পাওয়া যায় না।’

পৈশাগী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আবু বকর মাসুম বলেন, প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের সরবরাহ নেই। কয়েকটি আয়রন ট্যাবলেট, কৃমিনাশক ট্যাবলেট ও কিছু ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ছাড়া আর কোনো ওষুধ নেই। অধিকাংশ রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। তবে খুব শিগগির পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এলাইচ কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি তাছলিমা আক্তার জানান, যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন মাস কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে আর ওষুধ পৌঁছেনি। বর্তমানে তার ক্লিনিকে যে ওষুধ রয়েছে, তা হয়তো আরও ২০ দিন চলবে। নিয়মিত রোগীদের স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং অধিক চাহিদাসম্পন্ন রোগীদের হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলম দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, উপজেলায় ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। গত ছয় মাসে মাত্র দুই মাস কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব ক্লিনিকে ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে সাধারণ রোগীরা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্র”ত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!