× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৪২ এএম

ঝুঁকিতে সিলেটের মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৪২ এএম

ঝুঁকিতে সিলেটের মৌসুমি  চামড়া ব্যবসায়ীরা

সিলেট বিভাগে এবার প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়েছে বেশি। তবে চামড়ার এই ‘বাম্পার’ সংগ্রহেও মুখে হাসি নেই স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। উল্টো চামড়া সংরক্ষণের খরচ, লবণের চড়া দাম এবং ট্যানারি মালিকদের কারণে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, কাঁচা চামড়া কেনার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করাই রীতি। এমনটা না হলে গত কয়েক বছরের মতো এবারও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পুঁজি হারানো ছাড়া গত্যন্তর থাকবে না।

সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের স্থানীয় সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এবার সিলেট মহানগর ও বিভাগের ৪টি জেলা মিলিয়ে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮০ থেকে ৮৫ হাজার পিস। কিন্তু ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, সংগ্রহ এরই মধ্যে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গরুর চামড়া প্রায় ৯০ হাজার এবং খাসি ও ছাগলের চামড়া প্রায় ২২ হাজার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার সিলেটে পশু কোরবানির সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের জেলাগুলো থেকে চামড়া পাচার রোধে কড়াকড়ি থাকায় স্থানীয় কালেকশন পয়েন্টগুলোতে চামড়ার স্তূপ জমেছে।

চামড়া সংগ্রহ বাড়লেও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মূল দুশ্চিন্তা এখন প্রসেসিং খরচ নিয়ে। কাঁচা চামড়া ছাড়ানোর ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে লবণ না দিলে তা পচে যায়। কিন্তু ঈদ-পরবর্তী সময়ে সিলেটের খুচরা বাজারে লবণের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) এক লাফে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। নগরীর কদমতলী এলাকার এক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, ‘চামড়া তো কম দামে কিনেছি, কিন্তু এখন প্রতি পিস চামড়ায় লবণ আর শ্রমিকের মজুরি বাবদই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বাড়তি খরচ হয়ে যাচ্ছে। আড়তদাররা যদি এই খরচের টাকা হিসাব করে দাম না দেন, তবে আমাদের পথে বসতে হবে।’

এদিকে মাঠপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম মূল্যে চামড়া বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। মানভেদে গরুর কাঁচা চামড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খাসির চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৫-২০ টাকা পিস হিসেবে। কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে অনেক সাধারণ মানুষ ক্ষোভে চামড়া স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিনা মূল্যে দান করে দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কওমি মাদরাসার বড় একটি অংশ এবার চামড়া সংগ্রহে অংশ নেয়নি। কওমি মাদ্রাসা সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান জানান, তারা এ বছর চামড়া সংগ্রহ করেননি। তাই এ সম্পর্কিত কোনো তথ্যও তার কাছে নেই।

অন্য একটি পক্ষের মতে, চামড়া সংগ্রহে প্রশাসনের বড় ভূমিকা ছিল। সংশ্লিষ্ট একজন প্রতিনিধি জানান, ‘এবার ৫২টি মাদ্রাসা সংগৃহীত ৪০ হাজার চামড়া বিক্রি করতে পেরেছে। প্রশাসন যথেষ্ট আন্তরিক ছিল। চামড়া সংগ্রহে মাদ্রাসাগুলোর যে ব্যয় হয়েছে, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।’ তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে। চামড়ার দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকার উপরেই ওঠে না।’

এবার চামড়া পচনরোধে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্য মো. শাহজাহান বলেন, ‘সংগ্রহ করা অধিকাংশ চামড়ায় এরই মধ্যে লবণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম ধাপের সংরক্ষণ কাজ শেষ। বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লবণ সরবরাহ করা হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোরবানির ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে পারলে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়, যা এবার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

আঞ্চলিক মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঢাকার ট্যানারি মালিক ও স্থানীয় বড় আড়তদাররা প্রতিবছর ঈদ-পরবর্তী সময়ে একটি সিন্ডিকেট করেন। আড়তদারদের দাবি, ঢাকার সাভারের ট্যানারি মালিকদের কাছে সিলেটের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। নতুন করে চামড়া কেনার মতো পর্যাপ্ত নগদ টাকা বা পুঁজি তাদের হাতে নেই। এই পুঁজি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে আড়তদাররা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে লবণযুক্ত চামড়া কেনার পাঁয়তারা করছেন।

সূত্র জানায়, প্রশাসনের উদ্যোগে লবণ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের মূল দুশ্চিন্তা এখন চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য নিয়ে। মাঠপর্যায়ের ফড়িয়াদের অভিযোগ, ঢাকার ট্যানারি মালিক এবং বড় আড়তদাররা প্রতি বছর ঈদ-পরবর্তী সময়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের পরও শেষপর্যন্ত সিন্ডিকেট ভাঙা না গেলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাল্লাই ভারী হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

সার্বিক বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চামড়ার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য বাজার মনিটরিং টিম কাজ করছে। এ ছাড়া সরকারিভাবে চামড়া সংরক্ষণের জন্য যে পরিমাণ লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুত প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি এই তদারকি শুধু জেলা শহরেই সীমাবদ্ধ, উপজেলা বা গ্রাম পর্যায়ে এর কোনো সুফল মিলছে না।

আগামী ১০ থেকে ১২ দিন এই লবণযুক্ত চামড়াগুলো আড়তে রাখার পর ঢাকার ট্যানারিগুলোতে পাঠানো শুরু হবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে সরকার বা প্রশাসন শক্ত পদক্ষেপ না নিলে বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহের পরও মাঠপর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!