বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাট থেকে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বাগেরহাট জেলা প্রসাশক (ডিসি) গোলাম মো. বাতেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় শিশুটি গোসল করতে নামলে কুমির তাকে টেনে নিয়ে যায়। নিহত ফাতেমা আক্তার (৭) মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে।
মরদেহ পাওয়ার পর গতকাল দুপুরে মাজারের পাশে ফাতেমার জানাজা পড়ানো হয়। পরে মাজার-সংলগ্ন একটি গণকবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ফাতেমার ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই ঘাটে বেশ লোকজন ছিল। শিশুটি গোসল করতে দিঘির ঘাটে পা ফেলতেই তাকে কুমিরে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ফাতেমার চিৎকারে মাজারে থাকা স্থানীয়রা ইট মেরে ও দিঘিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে কুমিরটি শিশুটিকে দ্রুত দিঘির গভীরে নিয়ে যায়। এ সময় তিনবার ফাতেমাকে দিঘির বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা, স্বেচ্ছাসেবক, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা উদ্ধারে নামেন। নৌকা নিয়েও চলে উদ্ধার তৎপরতা।
মাজারের ঘাটের পাশের দোকানি বিনা আক্তার বলেন, মেয়েটি প্রতিদিনই ওই ঘাটে গোসল করে। সোমবারও গোসলে নেমেছিল, দিঘির ঘাটে পা ফেলতেই কুমিরে ওরে টেনে নিয়ে যায়। বাঁচার জন্য চিৎকার করেছে। কিন্তু কুমিরের মুখ থেকে ছাড়িয়ে আনার মতো সাহস কারো ছিল না। কুমিরের গায়ে ইট মেরে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও কুমির ফাতেমাকে নিয়ে দিঘির মাঝখানে চলে যায়।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা মাজারের ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মাজারের ঐতিহ্য ঠিক রেখে, এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘাটে ফেন্সিং করা বা বেড়া দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ৮ এপ্রিল দিঘির ঘাট থেকে কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায়। টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তখন মাজারে কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তবে মাজারে শুরু থেকে কুমির থাকলেও বর্তমানে থাকা কুমিরটি খানজাহানের অবমুক্ত করা কুমিরের বংশধর নয়।
জানা যায়, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটির নাম রাখেন কালা পাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটির ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটা কুমির এনে এই দিঘিতে ছাড়া হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটো ছিল, তার একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এরপর থেকে একটি কুমির ওই দিঘিতে আছে।

