জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় যুক্ত করতে সারা দেশের ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামীকাল রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় আড়াই হাজার কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার, আইসিটি বিভাগ, এটুআই ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীরা ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও ড্যাটা সায়েন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবে। এসব বিষয়ে পাঠদান নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ৯০০ মাস্টারট্রেইনার তৈরি করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ১২ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’
উপাচার্য বলেন, ‘উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মানবসম্পদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।’
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, শিল্প-একাডেমি সংযোগ বৃদ্ধি, নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর আওতায় কলেজগুলোতে ভাষা ক্লাব গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের চীনা, জাপানি, কোরীয়, স্প্যানিশ, ইতালীয় ও আরবি ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। আমাদের আশা, এ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দুই কোটির বেশি গাছ রোপণ সম্ভব হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিল্প একাডেমি সংযোগের হার বর্তমানে ১০ শতাংশেরও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

