শব্দদূষণকে নগরজীবনের অন্যতম বড় উপদ্রব ও ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে একটি বৃহৎ শব্দসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় গুলশান-২ চত্বরে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যৌথভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), পরিবেশ অধিদপ্তর এবং গুলশান সোসাইটি।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। সবাইকে বুঝতে হবে যে এটি কেবল সাধারণ পরিবেশগত দূষণ নয়, বরং একটি নীরব ঘাতক।’ তিনি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ভবিষ্যতে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২০ সাল থেকেই পরিবেশ অধিদপ্তর একটি বিশেষ সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে।’ তিনি জানান, এই প্রকল্পের অধীনে দেশের সব পেশাজীবী যেমনÑ শিক্ষার্থী, চালক, ট্রাফিক পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মশালা আয়োজন, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ডিভাইডারে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিভিসি ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সমাবেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে আইনি ক্ষমতা প্রদানের পর থেকেই ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার সুফল নগরবাসী ধীরে ধীরে পেতে শুরু করবে।’ তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে ইতোমধ্যে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আজ থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় শব্দদূষণের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হবে এবং সেখানে কোনো অবস্থাতেই হর্ন বাজাতে দেওয়া হবে না।’
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শব্দদূষণের কারণে বর্তমানে নগরজীবন পুরোপুরি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই বিশেষ আয়োজন থেকে তারা প্রত্যেকে একটি শব্দদূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা মহানগরের পরিচালক এবং প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমদসহ গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রীন ভয়েস’ ও ‘গ্রীন সেভার্স’-এর প্রতিনিধিরা।
সমাবেশ শেষে গুলশান-২ চত্বরের আশপাশের এলাকায় একটি বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিনিয়র কর্মকর্তা এবং ‘গ্রীন সেভার্স’ ও ‘গ্রীন ভয়েস’-এর স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে চালকদের অযথা হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন গাড়িতে শব্দ সচেতনতামূলক স্টিকার লাগিয়ে দেন এবং পথচারী ও চালকদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন।

