× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম

সন্দেহের তীর ডাক্তার মায়ের দিকে

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম

সন্দেহের তীর ডাক্তার মায়ের দিকে

সিলেটে এক বছরের ব্যবধানে স্বামীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর সন্তানের আত্মহত্যার ঘটনায় সন্দেহের তীর এখন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. রুলী বিনতে রহিমের দিকে। গত মঙ্গলবার তার একমাত্র পুত্র দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহাদি আনজুমের (১৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই এই সন্দেহ দানা বেঁধেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের ফাজিলচিশত এলাকায়।

পুলিশ জানায়, ডা. রুলীর স্বামী মিসবাহ উদ্দিনের রহস্যময় মৃত্যুর পর এবার তাদের একমাত্র ছেলে সন্তান মারা গেল। দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাসার চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুট উদ্ধার করে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি করেছে রহস্য ও ধোঁয়াশা। এলাকাবাসী ও নিহতের নিকটাত্মীয়দের অনেকের মনে উঁকি দিচ্ছে নানা প্রশ্ন, যার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই দুটি মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের তীর মায়ের দিকেই ছুড়ছেন।

জানা গেছে, রুলী প্রথম স্বামীর রহস্যজনক মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে ফাজিলচিশতের যে বাসায় তারা থাকতেন, সেখানে তিনি নিয়মিত থাকতেন না। মাঝেমধ্যে এসে দু-তিন দিন থেকে আবার চলে যেতেন।

নিহত মাহাদি আনজুম সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি সে বিএনসিসি ও স্কাউট কার্যক্রমে সক্রিয় ছিল। মায়ের সঙ্গে ফাজিলচিশত ১৩/৩ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে থাকত সে। বাসাটি ডা. রুলী ভাড়া নিয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ স্কুলছাত্র মাহাদির হাতে ইংরেজিতে লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করে। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর পর, অনুগ্রহ করে আমার দেহের ময়নাতদন্ত করবেন না বা এ বিষয়টি নিয়ে বেশি অনুসন্ধান করবেন না। আমি নিজের ইচ্ছাতেই জীবন শেষ করেছি। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। আর একটি অনুরোধ- যদি সম্ভব হয়, আমার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করবেন না। আর যত দ্রুত সম্ভব আমাকে ভুলে গিয়ে নিজেদের জীবন নিয়ে এগিয়ে যান।’

এদিকে এই পত্র নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর এত গুছিয়ে চিঠি লেখার বিষয়টি সন্দেহ বাড়িয়েছে। এয়ারপোর্ট থানার ওসি শহিদুর রহমান জানান, ‘অন্যান্য দিনের মতো সোমবার রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যায় মাহাদি। পরদিন সকাল গড়িয়ে গেলেও দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তার নিথর দেহ উদ্ধার করে। স্কুলছাত্রের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, এর আগে ডা. রুলীর স্বামী মিসবাহ উদ্দিনের মৃত্যুটিও স্বাভাবিক ছিল না এবং তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। স্বামীর সেই রহস্যজনক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একমাত্র ছেলের এভাবে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত লাশ হওয়া এবং ঘর থেকে এমন ‘রহস্যময়’ চিরকুট উদ্ধার হওয়াÑ পুরো ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে মোড় দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন কিশোরের আত্মহননের পেছনে পারিবারিক কোনো মানসিক চাপ, অবহেলা কিংবা মায়ের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। চিরকুটে কেন ময়নাতদন্ত ও অনুসন্ধান না করার জন্য অনুরোধ করা হলো, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

একই পরিবারে পরপর দুটি এমন রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং উদ্ধারকৃত চিরকুটের হাতের লেখা ও তথ্যাদি যাচাই-বাছাইয়ের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা পারিবারিক কোন্দল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই গভীর তদন্ত শুরু করেছে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!