দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের নিরাপত্তা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে ‘সাউ স্মার্ট সিকিউরিটি ডিভাইস’। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), সৌরশক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সমন্বয়ে তৈরি এই ডিভাইসটি খামারির অনুপস্থিতিতেও ২৪ ঘণ্টা খামারের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা ডিভাইসটি উদ্ভাবন করেছেন। এই উদ্ভাবনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে ‘শেকৃবি ইনোভেশন ল্যাব’।
‘সাউ স্মার্ট সিকিউরিটি ডিভাইস’-এ রয়েছে স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম ও আইওটি-ভিত্তিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এতে থাকা ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণনক্ষম ক্যামেরাটি প্রতি ৩০ মিনিট পরপর ভিডিও ধারণ করে খামার মালিকের মোবাইলে পাঠায়। ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে লাইভ ভিডিও দেখা এবং ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ছাড়া এতে বিল্ট-ইন মাইক্রোফোন, স্পিকার এবং ওয়াকিটকিসদৃশ দ্বিমুখী যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে খামার মালিক দূরে থেকেও কর্মচারীদের সরাসরি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবেন। ডিভাইসটিতে মিনি রাউটার বা সিমভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগের সুবিধা থাকায় এটি সবসময় অনলাইন থাকে।
ডিভাইসটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর উন্নত এআইভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। খামারের অনুমোদিত ব্যক্তিদের ছবি এতে আগে থেকেই সংরক্ষণ করা যায়। ফলে কোনো অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি খামারে প্রবেশ করলে ডিভাইসটি ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে মালিকের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠায়। পাশাপাশি প্রতি ৩০ মিনিট পর পর ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষণ করার সুবিধাও রয়েছে এতে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো অপরাধের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। গবেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ডিভাইস নয়, বরং খামারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট সিকিউরিটি গার্ড।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ডিভাইসটি কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে খামারের খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে, পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং চুরি, ডাকাতি ও নাশতামূলক কর্মকা- প্রতিরোধ করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের কৃষি খাতে শ্রমিক সংকট এবং তদারকির সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বড় আকারের মাছের ঘের, গবাদিপশুর খামার কিংবা পোলট্রি ফার্মে এই ডিভাইস ব্যবহারে সময়, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে।
উদ্ভাবকদের তথ্যমতে, ডিভাইসটির আনুমানিক নির্মাণ ব্যয় প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। মৎস্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি অর্থাৎ কৃষির প্রায় সব উপখাতেই এটি সমানভাবে ব্যবহার উপযোগী।

