ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

বাজেট-২০২৬-২৭

আইটি খাতে সুখবর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৫:৩৫ এএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আইটিসহ সবধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ে কর অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও জন্য রয়েছে সুখবর। তরুণদের উদ্ভাবনী কাজকে উৎসাহ দিতে সবধরনের কনটেন্ট থেকে উপার্জিত আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে এবারের বাজেটে স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে প্রিন্টার, মনিটর, ফ্ল্যাশ মেমোরিসহ কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমছে। দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। আর এই বাজেটে এসব প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবনায়, ফ্রিল্যান্সিং খাতের আয়কে বৈধপথে আনতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য এবারের বাজেটে সবধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সবধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে পাওয়া আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

বাজেটে কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডেটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস খাতের দেশীয় বিকাশকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কম্পিউটার, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের জন্য উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

টেলিযোগাযোগ খাতে বেশকিছু ছাড় : মোবাইল অপারেটর ও টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্যও বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে সুখবর রয়েছে। বাজেটে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎসে কর কর্তনের হার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এতে আগামী অর্থবছরে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সরকার, বাজেট বক্তব্যে এমনটি উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাজেটে সুখবর : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের প্রদত্ত সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করছি। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সেবা আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করছি। অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। এদিকে, দেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় এ খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আইসিটি বাংলাদেশকে একটি উদ্ভাবন নির্ভর, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় এ খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। এই অর্থ ‘স্টার্ট-আপ তহবিল’ হিসেবে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে, নারী উন্নয়নে এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।