ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

পুলিশে চাকরির নামে প্রতারণা সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ২

রূপালী প্রতিবেদন
প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৫:৫০ এএম

পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ  মো. শাফায়েত হোসেন শেখ (৫৫) ও এনামুল হক আকবর (৬৩)। এদের মধ্যে শাফায়েত হোসেন নিজেকে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতেন। গতকাল বুধবার সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকারের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল রাজারবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করত। পরে তারা ওই প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করত এবং পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তার মিথ্যা আশ্বাস দিত। চাকরি নিশ্চিত করার প্রলোভন দেখিয়ে তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করত। তদন্তে আরও জানা যায়, চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করত। তারা অগ্রিম অর্থ গ্রহণের আগে নিজেদের ব্যাংক চেক জামানতের নিরাপত্তা হিসেবে প্রদান করত, যাতে ভুক্তভোগীরা প্রতারণার বিষয়টি সহজে বুঝতে না পারে। এরই ধারাবাহিকতায় এক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা যোগাযোগ করে এবং চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়। প্রার্থীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য অভিযুক্ত শাফায়েত হোসেন নিজের স্বাক্ষর করা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার একটি চেক তার কাছে দেয়। একই সঙ্গে চাকরির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হয়।

পূর্ব তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের একটি চৌকশ দল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি স্থাপন করে। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে তথাকথিত মেডিকেল পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এলে সিআইডি সদস্যরা তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ দশমিক ৫ লাখ টাকা এবং চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার স্বাক্ষরিত চেকটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায় গ্রেপ্তারকৃত মো. শাফায়েত হোসেন শেখের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, প্রতারণা এবং খুনের ঘটনায় মোট তিনটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শাফায়েতের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট দাবির বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং আরও কোনো ভুক্তভোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।