× UCB Sticker Card
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০২:৫৯ এএম

নাগরিক সমাজের সংবাদ সম্মেলন

এনবিআরের এসআরও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে বাধা

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২৬, ০২:৫৯ এএম

এনবিআরের এসআরও  নবায়নযোগ্য জ্বালানি  সম্প্রসারণে বাধা

জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর থেকে সবধরনের আমদানি শুল্ক, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, বাজেট ঘোষণার মাত্র তিন দিন আগে জারি করা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি এসআরও সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাত : নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এবং সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), ইথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) থেকে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন থেকে ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, ইটিআই বাংলাদেশের পরিচালক মুনীর উদ্দিন শামীম, জলবায়ু কর্মী ফারাহ আনজুম এবং ক্লিনের নেটওয়ার্কিং এডভাইজার মনোয়ার মোস্তফা।

এ সময় বলা হয়, কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও উৎপাদন ব্যয় ৩০ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। এর ফলে জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের নির্ভরতা কমবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। এটি শুধু একটি কর-ছাড় নয়, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং জলবায়ু অভিযাত্রার জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। কিন্তু গত ৮ জুন জারি করা এনবিআরের এসআরওতে এমন কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা সাধারণ গ্রাহক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকদের জন্য সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকে প্রায় অসম্ভব করে তুলবে। এসআরও অনুযায়ী মূলত বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও পিপিএভিত্তিক সৌর প্রকল্পগুলোই কর-সুবিধা পাবে, অথচ কোটি কোটি আবাসিক গ্রাহক, কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এর বাইরে থেকে যাবেন।

এ বিষয়ে বিডব্লিউজিইডির সদস্যসচিব হাসান মেহেদী বলেন, সরকার যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে এনবিআরের এই এসআরও সেই অগ্রযাত্রার পথেই কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি অবিলম্বে বাতিল করে কর-সুবিধা সব নাগরিক ও উদ্যোক্তার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।

একদিকে সরকার এলএনজি আমদানিকে বড় অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করছে, অন্যদিকে এলএনজি আমদানির ওপর বিদ্যমান কর-সুবিধা বহাল রেখেছে। পাশাপাশি কয়লা আমদানির কর-ছাড় বৃদ্ধি, নতুন রিফাইনারি স্থাপন এবং জীবাশ্ম জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ দেশের সবুজ রূপান্তরকে ধীর করে দিতে পারে।

আগামী অর্থবছরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩৭৯ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র ২.২ শতাংশ। অথচ ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বছরে কমপক্ষে ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল গঠন, আবাসিক সৌরবিদ্যুতের জন্য সরাসরি ভর্তুকি প্রদান, করপোরেট বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি দ্রুত কার্যকর করা, ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর প্রগতিশীল নির্গমন কর আরোপের দাবি জানানো হয়।

এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) থেকে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজেট ও নীতিতে তার প্রতিফলন থাকতে হবে। শুধু ছাদ সোলারের লক্ষ্য নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা। রাজধানীর বাইরে চলমান লোডশেডিং ও জ্বালানি বৈষম্য দূর করতেও বাজেটে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্লিনের নেটওয়ার্কিং এডভাইজার মনোয়ার মোস্তফা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার। যত দ্রুত আমরা এগোবো, অর্থনীতি তত লাভবান হবে। তাই এই খাতে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

ইটিআই বাংলাদেশের পরিচালক মুনীর উদ্দিন শামীম বলেন, একটি বাজেট তখনই মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, যখন তা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। বৈষম্য রেখে সবুজ জ্বালানিতে রূপান্তর সম্ভব নয়। কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্যে সরকারকে কার্যকর প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার চাহিদা পূরণে বাজেট ও নীতির যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় তারা সরকারের কাছে ৭ দফা কৌশলগত দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলোÑ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৮ জুন ২০২৬ জারিকৃত এসআরও বাতিল করে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের ওপর থেকে সবধরনের শুল্ক ও কর আগামী ১০ বছরের জন্য বাতিল করতে হবে, যা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে, বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল গঠন করতে হবে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক বিনাসুদে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সরবরাহ করবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!