ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬

বিএসইসির চেয়ারম্যান

আরও সহজ হবে আইপিও প্রক্রিয়া

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের বর্তমান পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত আর্থিক প্রতিবেদন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। একই সঙ্গে আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, কাগজনির্ভর কার্যক্রম কমিয়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) আয়োজিত পরিচিতি ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার নাহিদ মাহতাব, তানভীর হাবিব রহমান ও নাফিজ আল তারিক, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার প্রমুখ।

সভায় চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, কমিশনের দায়িত্ব শুধু নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বাজারের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্টেকহোল্ডারদের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই নতুন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, একজন মানুষ যখন আমার কাছে আসে, সে তার সমস্যার বর্ণনা শুনতে চায় না; সে সমাধান চায়। তাই আমি কমিশনের সবাইকে বলেছি, আমাদের ‘সল্যুশন মাইন্ডসেট’ নিয়ে কাজ করতে হবে।

নিজের করপোরেট জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, লাফার্জে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। ফলে বাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব সমস্যাগুলো তিনি ভালোভাবেই জানেন। আমরা আপনাদের মধ্য থেকেই এসেছি। আপনাদের কষ্ট, দুর্ভোগ ও বাস্তবতা আমরা বুঝি।

বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। তবে আন্তর্জাতিক হিসাবমান আইএএস-৩৪ অনুসরণ করে সংক্ষিপ্ত আর্থিক প্রতিবেদন চালুর কথা জানান তিনি। মাসুদ খান বলেন, আমরা আর পূর্ণাঙ্গ তিন মাসের রিপোর্ট চাইব না। আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী কনডেন্সড রিপোর্টিং চাই। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আসতে চায় না। কারণ আইপিও প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকেই আইপিও বিধিমালা পর্যালোচনার কাজ শুরু হবে। এ জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করবে কমিশন।

তিনি বলেন, আমাদের আইপিও প্রসেসকে অনেক সহজ করতে হবে। কোম্পানিগুলোকে বাজারে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। বিএসইসির কার্যক্রম এখনো অনেকাংশে কাগজনির্ভর। যোগদানের প্রথম দিনেই তিনি অসংখ্য ফাইল দেখে বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান।

তিনি জানান, কমিশনের সব রেগুলেটরি রিপোর্টিং ধীরে ধীরে ডিজিটাল করা হবে। এক্সবিআরএল, এক্সএমএলভিত্তিক রিপোর্টিং এবং ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করে তথ্য বিশ্লেষণও স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এখনো অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্বাক্ষরের অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সমস্যা দূর করতে ডিজিটাল ট্রেডিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ব্রোকারদের উদ্দেশে বলেন, ডিজিটাল যুগে আমাদের এগোতেই হবে।

বাজারে টি+১ সেটেলমেন্ট চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়ে মাসুদ খান বলেন, এটি সময়ের দাবি। তবে শর্ট সেলিং বা স্ক্রিপ্ট নেটিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে বাজারের পরিপক্বতা বিবেচনা করে এগোতে হবে।