ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় সংকটাপন্ন প্রবাসীদের সহায়তা দিতে হাইকমিশনকে নোটিশ

মো. মনিরুজ্জামান, মালয়েশিয়া
প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৬:০৬ এএম

মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাংয়ে অবস্থিত অ্যারোফোম ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে কর্মরত ১০৫ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য জরুরি কনস্যুলার সহায়তা, মানবিক সহযোগিতা, আইনি সহায়তা এবং অভিবাসন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী। গত শুক্রবার আইনজীবীর পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা বর্তমানে গুরুতর শ্রম, কর্মসংস্থান, কল্যাণ এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত সংকটে রয়েছেন। তাদের পক্ষে মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং শ্রম আদালতে বকেয়া বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে যৌথ মামলা চলমান রয়েছে। মামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রমিকদের পাসপোর্টের তথ্য, ভিসার মেয়াদ, ওয়ারেন্ট টু অ্যাক্টসহ বিভিন্ন নথি যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ চলছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকদের অনেকেই বর্তমানে চরম খাদ্যসংকট ও মৌলিক চাহিদার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অভিবাসী কল্যাণ নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন), সোশ্যালিস অল্টারনেটিভ এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অস্থায়ীভাবে খাদ্য, যাতায়াত, অনুবাদ, গবেষণা ও নথিপত্র প্রস্তুতসহ জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কনস্যুলার সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার বিকল্প হতে পারে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনজীবী আরও জানান, অ্যারোফোমের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শ্রমিকরা খাদ্য, বৈধ অভিবাসন সুরক্ষা, কার্যকর আইনি প্রতিনিধিত্ব এবং বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য আইনগত পাওনা আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

চিঠিতে শ্রমিকদের ভিসার বর্তমান অবস্থার একটি শ্রেণিবিন্যাসও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জন শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আরও ৩৪ জনের ভিসার মেয়াদ চলতি বছরের ২৬ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে, যাদের ক্ষেত্রে জরুরিভিত্তিতে যাচাই ও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বাকি ৪৩ জনের ভিসার মেয়াদ তিন মাসের বেশি সময় পর্যন্ত বৈধ রয়েছে।

শ্রমিকদের পাসপোর্ট ও মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে এসব তথ্য দ্রুত যাচাই করার পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জরুরি কনস্যুলার ও মানবিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।