ঢাকা রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

শাহজালালের মাজার

দানবাক্সে মিলল প্রধানমন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীকে লেখা ২টি চিঠি

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স (সিন্দুক) খোলার পর বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি দুটি চিঠি পাওয়া গেছে। এর একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী, অন্যটি শিল্পমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা। গতকাল শনিবার সকাল থেকে মাজারের সিন্দুকগুলো খুলে টাকা গণনার সময় চিঠি দুটি মাজার পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা ও টাকা গণনাকারীদের নজরে আসে। মাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাজার জিয়ারতকারীদের কেউ গভীর আবেগ ও বিশ্বাস থেকে চিঠি দুটি দানবাক্সে ফেলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিটি পাঠিয়েছেন মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামের এক ব্যক্তি। চিঠিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও মাদকের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখক চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘জানি না আমার এই চিরকুট আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না। আমরা সবাই চাই আমাদের বাংলাদেশ সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক। তবে ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে।’

চিঠিতে দেশের শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মাদকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিঠির শেষে লেখক ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন।

এদিকে শিল্পমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা দ্বিতীয় চিঠিটিতে মূলত স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং সিলেটের একটি বন্ধ বা ধুঁকতে থাকা কলকারখানা পুনরায় চালু করার ব্যাপারে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের এলাকার একমাত্র বড় কলকারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ/ধুঁকতে থাকায় হাজারো পরিবার আজ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। যুবকেরা কাজের অভাবে দিশাহারা। আপনি উদ্যোগ নিলে এই কারখানা আবার প্রাণ ফিরে পেতে পারে, চালু হতে পারে হাজারো মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা। ওলির দরবারে দাঁড়িয়ে এই ফরিয়াদ করছি।’

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, মানুষ যখন কোথাও কোনো উপায় পায় না, তখন ওলির দরবারে এসে এভাবে মনের আকুতি লিখে রেখে যায়। চিঠি দুটি আপাতত মাজার প্রশাসনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

এদিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা, মাজার কমিটির সদস্য ও মাদ্রাসার ছাত্রদের উপস্থিতিতে দিনভর টাকা গণনা কার্যক্রম চলে। এবারও দানবাক্সগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি টাকা, স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।