ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

সৈয়দপুর রেলওয়ের আবাসন

পানিহীনতায় মানবেতর জীবন রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের

রেজাউল করিম মানিক, রংপুর
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:০৪ এএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ের ১৫০টি বাংলো ও ৭০০টি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কোয়ার্টারে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে সৈয়দপুর শহরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আটটি গভীর নলকূপ এবং ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আটটি ওভারহেড পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ৪০ বছর আগেই এই ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় ধীরে ধীরে ধ্বংস হচ্ছে পানির ট্যাংক, মোটর, পাইপসহ রেলওয়ের মূল্যবান সরঞ্জাম। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে রেলওয়ের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। কিন্তু এই সম্পদ সংরক্ষণে নেই কোনো উদ্যোগ। এমনকি রেলওয়ের কর্মীরা যারা সেখানে থাকেন, তাদের জন্যও নেই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮৭০ সালে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা স্থাপিত হওয়ার পর কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের আবাসন নিশ্চিতে নির্মাণ করা হয় ২ হাজার ৬৭০টি স্টাফ কোয়ার্টার। এগুলোর মধ্যে ১৫০টি বাংলো ও ৭০০টি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কোয়ার্টারে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য শহরের ইসলামবাগ শেরু হোটেল মোড়, চিনি মসজিদ, গোলাহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, সাহেবপাড়া ও মিস্ত্রিপাড়ায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আটটি গভীর নলকূপ এবং ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন আটটি ওভারহেড পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়। রেলওয়ের সেতু, বিদ্যুৎ ও কার্য প্রকৌশল বিভাগ যৌথভাবে এই পানি সরবরাহের কাজটি সমন্বয় করত। প্রায় ৪০ বছর আগে অচল হয়ে পড়ে এই ব্যবস্থা।

তথ্য অনুসারে, বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, স্টেশনসহ স্থানীয় রেলের বিভিন্ন দপ্তরে ৩ হাজার ৮৩২ জনবলের বিপরীতে কর্মরত ৮৭০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অধিকাংশই পরিবার নিয়ে সেখানে থাকেন। কিন্তু তারা যেসব বাসায় থাকেন, সেখানে নেই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ফলে বাধ্য হয়ে প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে পানির ব্যবস্থা করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ পাম্প হাউসগুলোয় আগাছায় ছেয়ে গেছে। দীর্ঘদিন কোনো ব্যবহার ও সংস্কার না হওয়ায় লোহার ওভারহেড পানির ট্যাংক এবং ভূগর্ভস্থ সরবরাহ পাইপগুলো মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। অনেক জায়গায় মূল্যবান কলকব্জা ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। এ ছাড়া পাম্প হাউসসহ চারপাশের রেলভূমি দখলে নিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ও অবৈধ দখলদাররা।

রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানার শ্রমিক ও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার বছরের পর বছর চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। শহরের ইসলামবাগ এলাকায় রেলওয়ের কোয়ার্টারে বসবাসকারী রেল কর্মচারী আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনের রান্নাবান্না ও গোসলের জন্য তাদের দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে নিজস্ব খরচে টিউবওয়েল বসাতে হয়েছে। অথচ বেতন থেকে পানির বিলসহ বাসা ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ের বাংলোতে বসবাসকারী এক ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী জানান, কোয়ার্টারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতি মাসে কোয়ার্টারের বিপরীতে নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও মৌলিক এই চাহিদার বিষয়টি রেলওয়ে প্রশাসন বরাবরই এড়িয়ে গেছে।

এ নিয়ে কথা হয় রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, অবহেলা-অযতেœ রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। এসব রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল থেকে রেলের ভূমি উদ্ধার এবং কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে অতিদ্রুত সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।

পানির পাম্পগুলো বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) চন্দন কুমার সরকার বলেন, তীব্র জনবল সংকটের কারণেই মূলত পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না।