ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

আইন পেশার অনেকেই শর্টকাটে অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:১০ এএম

আইন পেশার অনেকেই এখন শর্টকাট রাস্তায় অর্থবিত্তের মালিক হতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বিদায় সংবর্ধনায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, টিএইচ খান ও সর্বশেষ ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মতো সিনিয়র আইনজীবী মৃত্যুবরণ করলেন। তারা যে মানের আইনজীবী ছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই মানের আইনজীবী আমরাও হয়নি। অন্যদিকে এখনকার তরুণ আইনজীবীদের মধ্যে লেখাপড়ার বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে এই আইন অঙ্গনে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হবে। তাই আমাদের সময় এসেছে এই শূন্যতা পূরণ করতে এখনই ভূমিকা নিতে হবে।

আইন পেশায় সততা প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই পেশায় যদি সততা আর অধ্যবসায় না থাকে তাহলে এই পেশায় কেউ ভালো করতে পারে না। এই পেশায় অনেকেই কেমন যেন শর্টকাট রাস্তায় অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়। জ্ঞান অর্জন করতে চায় না। আমাদের সময় এসেছে একটা সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী আইনজীবী সমাজ গড়ে তোলার। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আজকে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে যে মেধার ঘাটতি, সে ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নেই তাহলে আমাদের সামনে অন্ধকার অপেক্ষা করছে।

দুই দশকের বেশি সময় বিচারিক দায়িত্ব পালনের পর গতকাল মঙ্গলবার অবসরে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।