বিগত চার মাস ধরে আইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে জাতীয় সংসদে আসতে দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেছেন, অনাকাক্সিক্ষত দীর্ঘসূত্রতার ফলে তার নির্বাচনি এলাকা ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষ একজন সংসদ সদস্যের মাধ্যমে যেসব সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার পাওয়ার কথা ছিল, তা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে নিজের বক্তব্যে ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘সূর্য সেন, প্রীতিলতা ও মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম মূলত শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি মজবুত ঘাঁটি। ১৯৭১ সালে যখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এক চরম সংকটে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন শহিদ জিয়াই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন।’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফটিকছড়ি ছিল শহিদ জিয়ার অত্যন্ত প্রিয় একটি নির্বাচনি এলাকা। আর সেই ফটিকছড়ির সচেতন জনগণ বিপুল ভোটে বিজয়ী করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই মর্যাদাপূর্ণ আসনটি উপহার দিয়েছেন।
নিজের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও বাইরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরে সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘যারা প্রতিনিয়ত ইনসাফ ও ন্যায়ের কথা বলেন, তারাই মূলত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাকে জাতির কাছে ছোট ও হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।’ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যাংকের মামলা ছিল না। অথচ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ পর্যন্ত তাকে আদালতের দরজায় দরজায় ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
তিনি জানান, এত প্রতিকূলতার মধ্যে মাত্র ছয় দিন প্রচারের সুযোগ পেয়েও ফটিকছড়ির সাধারণ মানুষ তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার প্রাপ্ত ভোটের অর্ধেকের চেয়েও কম পেয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে আইনি লড়াইয়ে জিতেই তিনি এই পবিত্র সংসদে এসেছেন বলে জানান।
ফটিকছড়ির অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এই সংসদ সদস্য জানান, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী জামাল উদ্দিনের পর ফটিকছড়িতে এই প্রথম প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদে আসার গৌরব অর্জন করেছেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও মাত্র তিন মাস এই এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন, কিন্তু পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নির্মম শিকার হয়ে তাকে জীবন দিতে হয়েছে।
তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমানেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ফটিকছড়ির মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা থেকে বঞ্চিত করার জন্য নানামুখী চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ফটিকছড়ির সার্বিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে নানা কঠিন ও বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে তাকে ভোট দিয়ে পবিত্র সংসদে পাঠানোর জন্য ফটিকছড়ির সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

