ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

ইউএনএইচসিআর-আইওএম’র উদ্বেগ

মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা মৃত্যুর শঙ্কা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৩:০২ এএম

সম্প্রতি মিয়ানমারের উপকূলে পাঁচ শতাধিক লোক নিয়ে দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার খবরে গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত জুনের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের নিয়ে দুটি নৌকা রওনা হয়। একটি নৌকা প্রায় ২৫০ জনকে বহন করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ২৮০ জন যাত্রী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াদি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনা এবং হতাহতের পরিসংখ্যান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও ইউএনএইচসিআর ও আইওএম সম্ভাব্য প্রাণহানির বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি মুষলধারে বৃষ্টি এবং অঞ্চলজুড়ে বন্যা সমুদ্র চলাচলে ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির প্রভাবের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সমাধানের অব্যাহত অভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতি এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে সীমিত সহায়তা ও সুযোগের কারণে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সন্ধানে সমুদ্র যাত্রার চেষ্টা করা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উন্নত অনুসন্ধান, উদ্ধার প্রচেষ্টা, আশ্রয় ও সুরক্ষার অ্যাক্সেস এবং চোরাচালান ও পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপসহ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে প্রাণহানি রোধে শক্তিশালী আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বহু বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অসাধারণ উদারতার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।