মাঠের সবুজ গালিচায় আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের থ্রিলার জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠের বাইরে শুরু হয় এক কুৎসিত অধ্যায়। মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে থ্রি-লায়ন্সদের স্বপ্ন ভঙ্গ করে আলবিসেলেস্তেরা যখন ফাইনালের টিকিট কাটছিল, ঠিক তখনই স্টেডিয়ামের বাইরে জ¦লছিল সহিংসতার আগুন। ম্যাচ শেষের পরমুহূর্তেই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার রাজপথ রূপ নেয় এক রক্তাক্ত রণক্ষেত্রে। স্টেডিয়ামের ঠিক ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত বিখ্যাত হাডসন গ্রিল বারের সামনে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সমর্থকেরা জড়ান দাঙ্গায়, যা থামাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় স্থানীয় প্রশাসনকে।
শুরুটা হয়েছিল গ্যালারি থেকে বয়ে আনা তপ্ত বাক্যবিনিময় দিয়ে, যা মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় তুমুল হাতাহাতি আর চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের তা-বে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, দ্রুত অকুস্থলে দাঙ্গা পুলিশ নামাতে বাধ্য হয় আটলান্টা পুলিশ বিভাগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় কপালে হাত দিয়ে বসে আছেন বেশ কয়েকজন সমর্থক, আবার অনেককে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে প্রিজন ভ্যানে তুলছে। এই সংঘাতের আঁচ আটলান্টা ছাড়িয়ে আটলান্টিকের ওপারেও পৌঁছে যায়; লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী রিজেন্ট স্ট্রিটেও বিজয়ী আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ওপর ইংলিশ সমর্থকদের অতর্কিত হামলার খবর পাওয়া যায়।
ফুটবল মাঠের এই ঐতিহাসিক বৈরিতা এবং ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে ম্যাচটিকে শুরু থেকেই ‘হাই-রিস্ক’ ক্যাটাগরিতে রেখেছিল ফিফা ও এফবিআই। স্টেডিয়ামে ফকল্যান্ড-সংক্রান্ত যেকোনো প্রতীক বা ব্যানার বহন করার ওপর ছিল কঠোর নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু টিকিট কালোবাজারি ও উন্মুক্ত কেনাবেচার কারণে গ্যালারিতে দুই দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় ম্যাচজুড়েই চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত মাঠের ভেতরে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ওতামেন্দিদের ‘ফকল্যান্ড’ ব্যানার প্রদর্শনের বিতর্কিত উস্কানি আর মাঠের বাইরের এই ভয়াবহ দাঙ্গাÑ সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার এই সেমিফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের পাতায় জয়-পরাজয়ের চেয়ে এক কালো অধ্যায় হিসেবেই বেশি দাগ কেটে থাকবে।

