ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

স্মিথ-গাউসের তাণ্ডবে টি-টোয়েন্টিতে রান চেজের বিশ্ব রেকর্ড

মাঠে ময়দানে ডেস্ক 
প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৪:১৪ এএম

বোলারদের রীতিমতো তুলাধুনা করে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে রানের পাহাড় ডিঙানোর এক অবিশ্বাস্য ও নতুন ইতিহাস লিখল ওয়াশিংটন ফ্রিডম। এমআই নিউইয়র্কের বিপক্ষে ২৬৭ রানের হিমালয়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যান্ড্রিস গাউসের অতিমানবীয় ও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ওলটপালট হয়ে গেছে বিশ্ব রেকর্ডের সোনালি পাতা। ২০২৬ সালের মেজর লিগ ক্রিকেটের এই ম্যাচ চার আর ছক্কার এমন এক তা-ব দেখল, যা আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়াÑ যেকোনো স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে আগে কখনো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

মেজর লিগ ক্রিকেটের ওকল্যান্ডের মাঠে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবিয়ান দানব নিকোলাস পুরানের সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেটে ২৬৬ রানের এভারেস্টসম পুঁজি গড়েছিল এমআই নিউইয়র্ক। ২৬৭ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পোস্টারবয় সাকিব আল হাসানের স্পিন ঘূর্ণির তোপে পড়ে ওয়াশিংটন ফ্রিডম। দলীয় মাত্র ১০ রানের মাথায় রাচিন রবীন্দ্র ও মিচেল ওয়েনকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান সাকিব। সতীর্থ বোলারদের ওপর দিয়ে যখন সুনামি বইছিল, তখনো সাকিব ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল; ৪ ওভারে মাত্র ৩৪ রান খরচায় তুলে নেন ২ উইকেট। কিন্তু শুরুর সেই ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেটে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যান্ড্রিস গাউসের ২৪১ রানের অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপ পুরো ম্যাচের নকশাই বদলে দেয়। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে এটিই এখন সর্বোচ্চ জুটির বিশ্ব রেকর্ড। এই অবিশ্বাস্য জুটির পথে তারা ভেঙে দিয়েছেন ২০১৬ সালে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের গড়া ২২৯ রানের ১০ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ম্যাচে গাউস খেলেন ১৩২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যা মেজর লিগ ক্রিকেটে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি। অন্যদিকে কাপ্তান স্মিথ ১১০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে এত রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার কোনো রেকর্ড ছিল না। চলতি বছরের শুরুতে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের ২৬৪-এর পাহাড় ডিঙিয়ে ২৬৫ রান তাড়া করাই ছিল এত দিন পর্যন্ত রেকর্ড বুকসের চূড়ায়। কিন্তু স্মিথ ও গাউসের ব্যাটে ভর করে ৪ উইকেটে ২৭০ রান তুলে সেই বিশ্ব রেকর্ড নিজেদের পকেটে পুরে নেয় ওয়াশিংটন। দুই দল মিলিয়ে পুরো ম্যাচে রান উঠেছে ৫৩৬, যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘ম্যাচ অ্যাগ্রিগেট’। শুধু তা-ই নয়, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে কোনো একটি ম্যাচে তিনটি শতক দেখার সৌভাগ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের হয়নি। প্রথম ইনিংসে পুরানের ৩১ বলে ১০৬ রানের টর্নেডো ইনিংসের পর রান তাড়া করতে নেমে বাকি ২টি সেঞ্চুরি করেন গাউস ও স্মিথ। বোলারদের জন্য চরম দুঃস্বপ্নের এই রাতে ওকল্যান্ডের মাঠে দুই দল মিলিয়ে ছক্কা মেরেছে মোট ৫১টি! টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এই প্রথম এক ম্যাচে ৫০-এর অধিক ছক্কা হওয়ার বিশ্ব রেকর্ড হলো, যার মধ্যে কায়রন পোলার্ড বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১,০০০ ছক্কার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন। সব মিলিয়ে ওকল্যান্ডের বাইশ গজে স্মিথ ও গাউস যে রূপকথা লিখলেন, তা ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অনন্তকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।