কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়া, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া এবং ভবনের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন শত শত সেবাগ্রহীতাকে অনিরাপদ পরিবেশে নাগরিক সেবা নিতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবাকেন্দ্র। এখান থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব ও ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র প্রদান, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আবেদন ও যাচাই-বাছাই, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম, ভিজিডি-ভিজিএফসহ সরকারি সহায়তা বিতরণ এবং কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়নসংক্রান্ত নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর আদায় এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতেও ইউনিয়ন পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পানি পড়ে। পানি ঠেকাতে অনেক কক্ষে বালতি ও পাত্র রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রক্ষায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, খসে পড়া পলেস্তারা এবং বিবর্ণ দেয়াল ভবনের নাজুক অবস্থারই চিত্র তুলে ধরছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সেবা নিতে গিয়ে তারা আতঙ্কে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভবনের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।
তালজাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে আসেন। কিন্তু ভবনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ অথবা জরুরি ভিত্তিতে বর্তমান ভবনের সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক কার্যালয় নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের সবচেয়ে কাছের সরকারি সেবাকেন্দ্র। তাই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত আধুনিক ও টেকসই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

