ঢাকা শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫, ১০:৫৬ এএম
কমপ্লিট শাটডাউন

তিন দফা দাবিতে সারা দেশে বিভাগীয় শহরের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন। রাজশাহী, খুলনা এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে বুয়েটের সব শ্রেণি ও পরীক্ষা কার্যক্রম ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকায় প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচারসহ তাদের সব দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালনের এ ঘোষণা দেন প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ। 

তিনি বলেন, আগামী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিভাগীয় শহরের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কমপ্লিট শাটডাউন চলবে। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে সব বিভাগে প্রকৌশলী সমাবেশ হবে। এরপর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।  

প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘প্রকৌশলীরা সরকারি চাকরিতে প্রকৌশল পদে আসতে পারছে না বৈষম্যমের কারণে। কারণ প্রকৌশল পদের সার্কুলেশন হচ্ছে না। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা পদোন্নতি পেয়ে সব পদে বসে যাচ্ছে। তারা জানান, প্রকৃত প্রকৌশলীদের চাকরিবিধিতে এসব সমস্যার সমাধানের জন্যই আমরা তিন দফা দাবি জানিয়েছে।’ 

এর আগে বিকেলে সচিবালয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের পেশাগত দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের নিমিত্ত গঠিত কমিটির প্রথম সভা হয়। 

সভা শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ তিন দফা বা সাত দফা বা তার খ-িত অংশ মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া যায় না। তাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হচ্ছে। যারা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের অভিভাবক ও চাকরিদাতাদের সঙ্গে বসা হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলনের পর সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। তাই নতুন আর কর্মসূচির প্রয়োজন নেই। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি হলো- ১. নবম গ্রেডের সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দিতে হবে এবং ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং হতে হবে; ২. দশম গ্রেডে বর্তমানে শুধু ডিপ্লোমাধারীরা আবেদন করতে পারেন, সেখানে উচ্চ ডিগ্রিধারীদের আবেদন করার সুযোগ রাখতে হবে;

শুধু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্নকারীরাই যেন ‘প্রকৌশলী’ বা ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।