× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৫৫ এএম

সম্পাদকীয়

বাধ্যতামূলক ভ্যাট; শর্তের বেড়াজালে স্বস্তির হাতছানি

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৫৫ এএম

বাধ্যতামূলক ভ্যাট; শর্তের বেড়াজালে স্বস্তির হাতছানি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। একটি রাষ্ট্রের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। এটি সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং জনকল্যাণের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকার একদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিল্প-বিনিয়োগকে উৎসাহিত করারও চেষ্টা করছে। ফলে বাজেটটি একই সঙ্গে সম্ভাবনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলোÑ দেশের প্রায় সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় কম। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে এক কোটিরও বেশি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আট লাখেরও কম। এই বাস্তবতায় করজাল সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি রোধে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নীতিগতভাবে ইতিবাচক। কর ব্যবস্থার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বৃদ্ধি পাবে।

তবে প্রশ্ন হলো, করের আওতা সম্প্রসারণের নামে ব্যবসা পরিচালনার মৌলিক সেবাগুলোকে ভ্যাট নিবন্ধনের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করা কতটা যৌক্তিক? ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কিংবা যানবাহন নিবন্ধনের মতো সেবাগুলো ব্যবসার জন্য অপরিহার্য। এসব ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জটিলতা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্যবসা সহজীকরণ’-এর কথা বলছে। কিন্তু নতুন বিধিনিষেধ যদি প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির জন্ম দেয়, তাহলে তা বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য ইতিবাচক হবে না।

অবশ্য সরকার যদি পুরো ভ্যাট নিবন্ধন ব্যবস্থা শতভাগ অনলাইন, স্বয়ংক্রিয় এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে পারে, তাহলে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, কর প্রদানের চেয়ে কর ব্যবস্থার জটিলতাই অনেক ব্যবসায়ীকে আনুষ্ঠানিক খাতের বাইরে থাকতে বাধ্য করে। তাই নতুন বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব সংস্কারও সমান জরুরি।

বাজেটের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর করের চাপ কমানোর উদ্যোগ। চাল, গম, আলু, মসলাসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমানো এবং রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের প্রস্তাব উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা। গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্ত ও নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই বাজারে মূল্যচাপ কমাতে কর হ্রাসের উদ্যোগ সময়োপযোগী।

করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, নি¤œ আয়ের করস্তর পুনর্বিন্যাস এবং ফ্রিল্যান্সিং আয়ে কর অব্যাহতির মতো সিদ্ধান্তও প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন খাত হিসেবে ফ্রিল্যান্সিংকে উৎসাহিত করা বর্তমান সময়ের প্রয়োজন। একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, মোবাইল ফোন উৎপাদন এবং স্থানীয় শিল্পে কর রেয়াতের প্রস্তাব ভবিষ্যৎমুখী অর্থনৈতিক চিন্তার প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব ও প্রবৃদ্ধিমুখী করার চেষ্টা স্পষ্ট। একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানো, অন্যদিকে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা, এই দুই লক্ষ্যকে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছে সরকার। কিন্তু সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। করজাল সম্প্রসারণ যেন হয়রানির নতুন হাতিয়ার না হয় এবং কর রেয়াতের সুফল যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের কাছে পৌঁছে, সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত করাই হবে আগামী অর্থবছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!