ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে সমাজ সংস্কারের জন্য কৃতি মনীষীদের আবির্ভাবকে বাংলার নবজাগরণ বলা হয়। রাজা রামমোহন রায়ের সময় থেকে এই নবজাগরণ শুরু হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল পর্যন্ত এর সময়সীমা ধরা হয়। বাঙালির মধ্যযুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ের অবসান ঘটিয়ে আধুনিক যুগে পদার্পণ হয় নবজাগরণের ফলে। তখনকার কৃতি মনীষীদের মধ্যে অক্ষয় কুমার দত্ত ছিলেন অন্যতম। ১৫ জুলাই ১৮২০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায়। তিনি বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অনুবাদক হিসেবেও ছিলেন দক্ষ।
সংবাদপত্রে লেখালেখি দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার অন্যতম সভ্য মনোনীত হন ১৮৩৯ সালে। ১৮৪২ সালে বিদ্যাদর্শন নামে একটি মাসিক পত্রিকা চালু করেন নিজস্ব উদ্যোগে। এই পত্রিকা তিনি বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে পারেননি। ১৮৪৩ সালে তিনি ব্রাহ্মসমাজ ও তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদকের পদে মনোনীত হন। এখানে তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। জমিদারি প্রথা, নীলচাষ ও তৎকালীন সমস্যা সম্পর্কে এই পত্রিকায় তিনি মতামত প্রকাশ করতেন। এই প্রবন্ধগুলোই পরে বই হিসেবে বের করতেন। বিজ্ঞান আলোচনার ব্যাপারে তার আগ্রহ ছিল। তাকে ভারতে বিজ্ঞান আলোচনার পথিকৃৎ বিবেচনা করা হয়।

