ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে পর্তুগাল বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি ‘হটস্পট’। বিশেষ করে দেশটির পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট শিল্পে কর্মীর চাহিদা সবসময়ই আকাশচুম্বী। তবে সঠিক তথ্য ও সঠিক পথের অভাবে অনেকেই প্রতারিত হন। আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালের রেস্টুরেন্টে কাজ করতে যেতে চান, কি করতে হবে তা জানাচ্ছেন পর্তুগালে রেস্টুরেন্টে কাজ করতে যাওয়া টিপসার হাসান নাসিম জানাচ্ছেন বিস্তারিত
পর্তুগাল যাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বার
বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায় হলো পর্তুগিজ ‘জব সিকার ভিসা’। এটি মূলত কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া হয়। ১২০ দিন মেয়াদি এই ভিসায় আপনি পর্তুগাল গিয়ে বৈধভাবে কাজ খুঁজে নিতে পারেন। কাজ পেয়ে গেলেই আপনি সে দেশে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি বা রেসিডেন্সি কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য হবেন। এর জন্য বড় কোনো ডিগ্রির চেয়েও আপনার কাজের অভিজ্ঞতা এবং ব্যাংকে ন্যূনতম কিছু টাকা দেখানোর সক্ষমতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কাজ পাওয়ার ডিজিটাল মাধ্যম
পর্তুগালে যাওয়ার আগে বা গিয়ে কীভাবে কাজ পাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বর্তমানে বেশ কিছু জনপ্রিয় ওয়েবসাইট এবং অ্যাপের মাধ্যমে রেস্টুরেন্টগুলোতে সরাসরি আবেদন করা যায়।
ক্স ঘবঃ-ঊসঢ়ৎবমড়ং ও ওহফববফ : পর্তুগালের সবচেয়ে বড় এই জব পোর্টালগুলোতে নিয়মিত কিচেন হেল্পার, ওয়েটার ও শেফ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি থাকে।
ক্স ঊঁৎড়ঢ়ধংং ঈঠ : সাধারণ জীবনবৃত্তান্তের বদলে ইউরোপীয় মানদ-ের ‘ইউরোপাস’ ফরম্যাটে সিভি তৈরি করলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
ক্স লিঙ্কডইন নেটওয়ার্কিং : পর্তুগালের বড় বড় হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের এটি সেরা মাধ্যম।
প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ভাষার গুরুত্ব
রেস্টুরেন্টে কাজ মানেই কেবল রান্না করা নয়; এখানে কাস্টমার সার্ভিস একটি বড় বিষয়। টিপসার হাসান নাসিমের পরামর্শ অনুযায়ী, আপনি যদি ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হন এবং পাশাপাশি পর্তুগিজ ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান (যেমন- অভিবাদন, খাবারের নাম, হিসাব-নিকাশ) অর্জন করেন, তবে আপনি অন্যদের চেয়ে দ্রুত কাজ পাবেন এবং আপনার বেতনও বেশি হবে। এ ছাড়া ফুড সেফটি বা হাইজিন সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান থাকা জরুরি।
আইনি সুরক্ষা ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ড
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার সময় অবশ্যই বিএমইটি স্মার্ট কার্ড নিশ্চিত করতে হবে। এটি আপনার প্রবাস জীবনের সরকারি স্বীকৃতি। পর্তুগালে গিয়ে যদি আপনার নিয়োগকর্তা বেতন নিয়ে টালবাহানা করেন বা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেন, তবে আপনি ‘মাইগভ’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই ডিজিটাল সুরক্ষাটি প্রবাসে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি।
খরচ ও সম্ভাবনা সরাসরি দালাল না ধরে নিজের ফাইল নিজে প্রসেস করলে খরচ অনেক কমে আসে। পর্তুগালে রেস্টুরেন্ট কর্মীরা সাধারণত ন্যূনতম বেতনের পাশাপাশি ভালো অংকের ‘টিপস’ পান। এ ছাড়া ৫ বছর নিয়মিত কাজ ও ট্যাক্স পরিশোধ করলে পর্তুগালের পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হয়, যা পুরো ইউরোপে আপনার যাতায়াত ও কাজের পথ খুলে দেয়।
হাসান নাসিমের বিশেষ বার্তা
‘পর্তুগালে রেস্টুরেন্ট কাজ সম্মানজনক এবং লাভজনক। তবে মনে রাখবেন, সেখানে যাওয়ার আগে কোনো না কোনো কাজে (যেমন- রান্না, বেকিং বা কাস্টমার ডিলিং) দক্ষ হয়ে নেওয়া জরুরি। আপনার দক্ষতাই বিদেশের মাটিতে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করবে। সঠিক পথে হাঁটুন, স্বপ্ন পূরণ হবেই।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন