ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

নাটকের সারথির হঠাৎ ছন্দপতন

রঙের মানুষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম

একসময়ের টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা শামস সুমন। মঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট ও বড় পর্দা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন স্বননের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু এই অভিনেতার। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। শিল্পের পাশাপাশি সমাজ-রাজনীতির প্রতিও তিনি ছিলেন গভীর সংবেদনশীল। জীবনের শেষ সময়েও সেই সচেতনতা অটুট ছিল। হঠাৎই পথচলা থেমে গেছে এ নাটকের সারথির।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। এদিন সন্ধ্যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ‘আমাকে কেউ ডাকে না, তাই অভিনয় তেমন করা হয় না’Ñ আক্ষেপভরা এই কথাগুলো শামস সুমনের। নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এই অভিনেতা জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে ফেরার স্বপ্ন বুকে লালন করে গেছেন; কিন্তু সেই সুযোগ যথাযথ আসেনি। অপূর্ণ সেই আকাক্সক্ষা নিয়েই ৬১ বছর বয়সে তিনি জীবনযাত্রার ইতি টানলেন। গতকাল বেলা ১১টায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ও রেডিও ভূমির স্টেশন চিফ শামস সুমনের প্রথম নামাজে জানাজা চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেখানে সদ্য প্রয়াত এই অভিনেতার সহকর্মী থেকে শুরু করে সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই তাকে শেষ বিদায় দিতে এসেছিলেন।

জানা যায়, শামস সুমনের পরিবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তার পরিবার ফিরলেই পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার আগ পর্যন্ত শামস সুমনের মরদেহ রাজধানীর সিএমএইচের হিমঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার দাফন নিয়ে আর তথ্য পাওয়া যায়নি। শামস সুমন অভিনীত প্রথম সিনেমা বাদল খন্দকার পরিচালিত ‘বিদ্রোহী পদ্মা’। এরপর তিনি ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’, ‘কক্সবাজারে কাকাতুয়া’, ‘চোখের দেখা’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘আয়না কাহিনী’, ‘জয়যাত্রা’ প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেন।