× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১২:২৮ এএম

অজস্র মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১২:২৮ এএম

অজস্র মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি

বড় পর্দায় তার হাতেখড়ি অভিনেতা তথা প্রযোজক দেবের বিপরীতে। তার পরেই নতুন কাজের সুযোগ আসে এপার বাংলায়। এই নায়িকার শুরুটা হয়েছিল মডেলিংয়ের মাধ্যমে। এরপর ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন টালিউড অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু। বর্ধমানের মেয়ের কলকাতায় নিজের জমি শক্ত করা খুব একটা সহজ ছিল না। দেবের পর শাকিব খানের সঙ্গে ‘প্রিন্স’ সিনেমাতে নায়িকা হয়ে আলোচনায় আসেন। সম্প্রতি নিজের প্রথম সিনেমা দেখতে বাংলাদেশে এসেছিলেন জ্যোতির্ময়ী। দর্শকদের একগুচ্ছ ভালোবাসা নিয়ে এরই মধ্যে নিজ দেশে ফিরে গেছেন তিনি।

কলকাতা ফিরে জ্যোতির্ময়ী কথা বলেছেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে। ভাগ করে নেন বাংলাদেশে আসার প্রথম অভিজ্ঞতা। দর্শক প্রতিক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে শুরুতেই এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ভীষণ ভালো একটি সময় পার করেছি। অজস্র মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। অনেক অপপ্রচারের পরেও দর্শক প্রিন্সকে প্রচুর ভালোবাসা দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভীষণ আতিথেয়তা পরায়ণ। আগে শুনেছিলাম, এবার বাস্তবে প্রমাণ পেলাম। কাজ করতেও অনেক ভালো লেগেছে। শাকিব খানের সিনেমা মানেই বাংলাদেশে অন্যরকম উন্মোধনা। এমন উন্মোদনার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়ে ভীষণ ভালো লেগেছে। সরাসরি দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখা অনেক ভালো লাগা কাজ করছে। দুই বাংলা মিলিয়ে এবারই প্রথম এমন উন্মোদনা দেখার সুযোগ হয়েছে। দর্শক সোনিয়া চরিত্র ও পরীকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছেন। যে কারণে আমি আনন্দিত।’

বাংলাদেশের প্রথম কাজে চ্যালেঞ্জ ছিল কিনা জানতে চাইলে জ্যোতির্ময়ী বলেন, ‘আমি যতটুকু পারি ততটুকুই দিয়েছি। তবে বাংলাদেশের প্রথম কাজে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা কেরছি। কখনো কাউকে ছাপিয়ে যেতে চাইনি। যে কারণে চ্যালেঞ্জ মনে হয়নি। চেষ্টা করেছি কাজটি ভালো করার। তার ফলও পাচ্ছি।’

শাকিব খান প্রসঙ্গে ‘বধূয়া’ ধারাবাহিকের আলোচিত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারা একজন শিল্পীর জন্য অনেক বড় পাওয়া। যখন কাজের প্রস্তাব পাই তখন ভেবেছি তার কাছ থেকে আবার নতুন কিছু শিখতে পারব। প্রায় আমার বয়সের সমান তার ক্যারিয়ার। এমন অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে কাজ করে অনেক কিছু শিখেছি। শেখার তো শেষ নেই। সবে আমার ক্যারিয়ারের শুরু। সেই জায়গা থেকে শাকিব খানের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।’

দুই বাংলার দুই শীর্ষ নায়কের সঙ্গে অভিনয় করেছেন জ্যোতির্ময়ী কু-ু। তার নাচের প্রতি ঝোঁক ছিল। দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন ভারতনাট্যম শিখেন। এরপর মডেলিং-এ নাম লেখান। দেবের ‘প্রজাপতি ২’ সিনেমায় অভিনয় করে বড় পর্দার তার অধ্যায় শুরু হয়। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে ‘প্রিন্স’ সিনেমায় কাজ করেন। ঢালিউডের মেগাস্টারের সঙ্গে প্রথম কাজটিকে ভীষণ স্পেশাল হিসেবে দেখছেন ওপারের এই নায়িকা।

জ্যোতির্ময়ীর কথায়, ‘বাংলাদেশে প্রিন্স আমার প্রথম সিনেমা। তাই অনেক বেশি প্রেশার ছিল। নানা জটিলতা কাটিয়ে সিনেমাটি যখন দর্শক দেখে ভালো লাগা জানিয়েছেন সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’

যোগ করে তিনি বলেন, ‘শাকিব খানের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে অনেকের কাছ থেকে অনেক কথা শুনেছি। যেমন তিনি খুব রাগী, খুব কম কথা বলে। তার সঙ্গে কথা বলার সময় সাবধানে কথা বলতে হবে, এমন অনেক পরামর্শই অনেকে দিয়েছেন। কিন্তু আমি যখন সিনেমার শুটিংয়ে তাকে প্রথম দেখি, তখন আমার মনে হয়েছে, তার সম্পর্কে কেন মানুষ ভুল কথা বলে!’

শাকিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘শাকিব খান যথেষ্ট শান্ত স্বভাবের, অনেক বিনয়ী ও খুব ভালো মানুষ। তার কাছ থেকে পাওয়া সেরা পরামর্শ হলো কে, কী বলছে ওসব পাত্তা দিও না। যে যা বলছে বলুক, যে যা করছে করুক, সব কথার সবসময় উত্তর দিতে হয় না।’

এদিকে, ‘প্রিন্স’ সিনেমা ঘিরে অসংখ্য অভিযোগ! ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেও নিয়েছেন শাকিব খান। সম্প্রতি সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে অভিনেতার আচরণ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা চর্চা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্যোতির্ময়ী কথা বলতে অনাগ্রহ জানান।

অভিনয় নিয়ে আগামীর ভাবনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোট থেকেই অভিনয়ের প্রতি আমার বেশ আগ্রহ ছিল। টিভি চললে অভিনয় দেখে কপি করতাম। সেই আগ্রহ থেকে মডেলিং-এ নাম লেখাই। তারপর নাটক দিয়ে শুরু করে সিনেমায় কাজ করছি। এখন অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। সব নায়কদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। যেখানে চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারব সেখানেই অভিনয় করব। বাংলাদেশে আরও নতুন সিনেমায় কাজ করতে চাই।’

ছোট বয়স থেকেই মডেলিংয়ের প্রতি ঝোঁক থাকলেও কলকাতায় কাজের সুযোগ খোঁজা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জের। প্রতিদিন বর্ধমান থেকে কলকাতায় যাতায়াতÑ এই কঠিন রুটিনের মধ্যেই নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেছিলেন জ্যোতির্ময়ী। তবে শুরু থেকেই পরিবারের সমর্থনই ছিল বলে জানান এই নায়িকা।

কোনো রকম বাধা বা তথাকথিত সামাজিক গ-ির মধ্যে তাকে আটকে রাখা হয়নি। ধারাবাহিকে সুযোগ পাওয়ার পরে কলকাতায় পাকাপাকিভাবে থাকা শুরু। এর পরের গল্প কারো অজানা নয়। মিঠুন চক্রবর্তী, শাকিব খান ও দেবের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ যে এত তাড়াতাড়ি আসবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি। এখনো তা জ্যোতির্ময়ীর কাছে স্বপ্ন মনে হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!