ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তাজিনহীন আট বছর

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৪:২৫ এএম

বাংলা নাট্য জগতের একজন জনপ্রিয় তারকা ছিলেন অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। বহু নাটকে তার দুর্দান্ত উপস্থিতি ছিল। ১৯৯৭ সাল থেকে থিয়েটারে অভিনয় করতেন। নাম কামিয়েছিলেন উপস্থাপনায়ও। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সাংবাদিকও। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাজিন তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা করে হয়েছেন প্রশংসিতও। লেখালেখিতেও ছিলেন সমভাবে। ছিলেন ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন অফিসারও।

আজ গুণী এই অভিনেত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। দেখতে দেখতে আটটি বছর পার হয়ে গেল এই অভিনেত্রীর প্রয়াণের। বহু প্রতিভাধর অভিনেত্রী তাজিনের ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই জন্ম হয় নোয়াখালীতে। পড়াশোনা করেন ঢাকার ইডেন কলেজে। ১৯৯২ সালে এই কলেজ থেকেই এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন।

‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তাজিন আহমেদের অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর তিনি অসংখ্য নাটক ও টেলিছবিতে কাজ করেন। তার অভিনীত ‘আঁধারে ধবল দৃপ্তি’ নাটকটি সে সময় বেশ সাড়া ফেলেছিল। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের ‘নীলচুড়ি’ নাটকেও তার অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। অভিনয়ে আসার আগে ১৯৯১ সালে বিটিভিতে প্রচারিত ‘চেতনা’ নামের একটি অনুষ্ঠান দিয়ে তিনি উপস্থাপনা শুরু করেন। উপস্থাপনাতেও বেশ নাম কামান তিনি।

নাট্যাঙ্গনে কাজ করার পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর তাজিন আহমেদ সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা ছেড়ে ২০০২ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব সামলান তাজিন। এসবের বাইরে লেখালেখির কাজও করতেন বহু প্রতিভাধর এ তারকা। তাজিনের লেখা গল্পের নাটকগুলোর মধ্যে ‘যাতক’, ‘যোগফল’, ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’ ও সম্পর্ক’ উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে ‘যাতক’ ও যোগফল’ নাটক দুটি তিনি পরিচালনাও করেন।

জীবনের নানা টানাপোড়েনের কারণে আস্তে আস্তে মিডিয়া ছেড়ে নিবৃত্ত জীবনে চলে যান তাজিন। প্রথম ধাক্কা আসে দাম্পত্য জীবনে। ভালোবেসে নাট্যনির্মাতা এজাজ মুন্নাকে বিয়ে করলেও সেই সংসার বেশি দিন টেকেনি। এরপর গায়ক ও সংগীত পরিচালক রুমি রহমানের সঙ্গে সংসার শুরু করলেও সেটিও খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩ সালে ‘কথার কথা’ নাটকটির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ৩২তম বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন তাজিন আহমেদ। এমন একজন বহুল প্রতিভার অধিকারী অভিনেত্রীকে হারিয়ে আজও তার শূন্যতা অনুভব করে পুরো নাট্যজগৎ।