ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

নজর কেড়েছেন তুষি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০১:৫২ এএম

বাংলা চলচ্চিত্রের গ-ি পেরিয়ে ওটিটি এবং ভিন্নধারার সিনেমায় এখন এক নতুন জোয়ার এসেছে। এই জোয়ারের অন্যতম কা-ারি হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। কোরবানির ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রইদ’ সিনেমায় তার অভিনয় আরও একবার প্রমাণ করলÍতিনি শুধু গ্ল্যামারেই সীমাবদ্ধ নন, বরং চরিত্রকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলার এক জাদুকরী ক্ষমতা তার রয়েছে।

এই সিনেমায় নিজের জাত চিনিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছেন তুষি। পর্দায় তার অনবদ্য ও শক্তিশালী অভিনয় সিনেমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। সিনেমাটিতে নাজিফা তুষি যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তা ছিল একাধারে জটিল এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে ভরা। অতি-অভিনয় এড়িয়ে অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন। সংলাপের চেয়ে তার চোখের ভাষা এবং মুখের অভিব্যক্তি অনেক বেশি কথা বলেছে।

সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার চরিত্রের যে মানসিক রূপান্তর, তা তিনি নিখুঁতভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং চলচ্চিত্র সমালোচকদের পাতায় তুষির অভিনয় নিয়ে তুমুল প্রশংসা চলছে।

অনেকেই মনে করছেন, এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। চরিত্রের দুঃখ, কষ্ট এবং ভেতরের লড়াইকে তিনি যেভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন, তা দর্শকদের আবেগকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সহ-শিল্পীদের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন রসায়ন এবং প্রতিটি দৃশ্যে তার উপস্থিতি ছিল দারুণ জমকালো।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমাটি সাধুর বউ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তুষি। সিনেমায় তার চরিত্রের নাম জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘গ্রামে সাধারণত কাউকে ডাকার জন্য অমুকের বউ কিংবা অমুকের মেয়ে বলে হয়। এই সিনেমাতেও ঠিক তাই। আমার চরিত্রের আলাদা করে নাম নেই ঠিক তবে, সাধুর বউই পরিচয়।’

পর্দায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার গল্প জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, যখন সিনেমাটির গল্প শুনি তখনই এর প্রতি এক অদ্ভুত টান অনুভব করি। গল্প শুনে সিদ্ধান্ত নেইÍএই চরিত্রের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব। এই লুকটি পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে শুটিংয়ের দীর্ঘ সময়ে সব ধরনের প্রসাধনী এবং শ্যাম্পুর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ রেখেছিলাম। চুলে জট পাকানো এবং ত্বককে মলিন ও ময়লা দেখানোর জন্য এক দীর্ঘ ‘হেয়ার অ্যান্ড স্কিন ড্যামেজ’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। দর্শক সিনেমাটি দেখে চরিত্রটি নিয়ে আলোচনা করছে এটাই আমার স্বার্থকতা।’

‘হাওয়া’ বা ‘আইসক্রিম’-এর মতো সিনেমায় নিজের অভিনয়ের ছাপ রাখার পর ‘রইদ’ সিনেমাটি তুষির ক্যারিয়ারে একটি নতুন মাইলফলক যোগ করল। সাধারণ নায়িকার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে তিনি যে কোনো চ্যালেঞ্জিং ও গম্ভীর চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন, এই সিনেমা তারই অকাট্য প্রমাণ।

সিনেমাটিতে তুষির এই অনবদ্য অভিনয় কেবল তার ক্যারিয়ারেরই উন্নতি ঘটায়নি, বরং দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নারীপ্রধান বা চরিত্রনির্ভর অভিনয়ের গুরুত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। দর্শক এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন পর্দায় তার পরবর্তী চমক দেখার জন্য।

বর্তমানে তুষির হাতে রয়েছে শিবব্রত বর্মনের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিতব্য রবিউল আলম রবির ‘সুরাইয়া’ সিনেমাটি। অন্যদিকে, পাঁচ বছর বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে ফিরছেন নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। তার সিরিজ ‘অ্যানি’তেও আছেন তুষি।

তুষি জানান, ‘আন্ধার’ ও ‘সখী রঙ্গমালা’সহ তার আরও কয়েকটি কাজ রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। পাশাপাশি নতুন আরও একটি সিনেমার কাজও শুরু করেছেন তিনি।