ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

শিল্পীদের কাজের পরিধি বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে চান আবির চৌধুরী

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে ঘিরে এখন উৎসবমুখর বিএফডিসি। পোস্টার, ব্যানার আর তারকাদের পদচারণায় মুখরিত চারপাশ। এবারের নির্বাচনে যে কটি পদ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ‘আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক’। আর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘আরমান-মুক্তি পরিষদ’ থেকে লড়ছেন চিত্রনায়ক এম এ পারভেজ আবির চৌধুরী। শিশুশিল্পী থেকে ক্যারিয়ার শুরু করা এই চিত্রনায়ক এবার এফডিসির সীমান্ত পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে ঢালিউডকে রি-ব্র্যান্ডিং করার স্বপ্ন দেখছেন।

মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ আবির চৌধুরী ২০১০ সালে ‘বাপ বড় না শ্বশুর বড়’ এবং ২০১২ সালে ‘তুমি আসবে বলে’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শক হৃদয়ে চকোলেট বয় হিসেবে জায়গা করে নেন। মাঝে দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে তরুণ নির্মাতা মিজানুর রহমান মিজানের ‘রাগী’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটে তার। অভিনয়ের চেনা আঙিনা ছেড়ে এবার তিনি নেমেছেন সাধারণ শিল্পীদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে।

প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রুমানা ইসলাম মুক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব কাঁধে নিতে প্রস্তুত হয়েছেন। আবির চৌধুরী বলেন, ‘শিল্পী সমিতি কেবল ঘরোয়া কোন্দল আর ইফতার মাহফিলের জায়গা নয়, এটি আমাদের চলচ্চিত্রের মর্যাদার প্রতীক। আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদের যে বিশাল সম্ভাবনা, তা অতীতে সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি। আমি সেই শূন্যতা পূরণ করতে চাই। গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, আন্তর্জাতিক ফেস্টিভ্যাল উইং, প্রবাসী বাজার ও পারফর্মারদের সুরক্ষা, যৌথ প্রযোজনা সিনেমা নির্মাণে কাজ করতে চাই। একটিবার সুযোগ চাইব যে, শিল্পীরা সেই সুযোগ দিলে নিজের সেরাটা দিয়ে আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।’

নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, এফডিসির টেবিল টকগুলোতে আবির চৌধুরীর নাম ততই জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে এফডিসির সংযোগ স্থাপনে একজন শিক্ষিত ও দূরদর্শী তারকার প্রয়োজন ছিল, যা আবিরের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী আবির চৌধুরী আরও বলেন, ‘বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে প্রায় ৮০টি অভিনয়শিল্পী ইউনিয়ন, গিল্ড ও পেশাজীবী সংগঠন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঋবফবৎধঃরড়হ ড়ভ অপঃড়ৎং (ঋওঅ)-এর সদস্য হিসেবে কাজ করছে। এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক শিল্পীদের অধিকার, কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ, মেধাস্বত্ব ও বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমার স্বপ্ন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিও একদিন এই আন্তর্জাতিক পরিসরের অংশ হবে। নির্বাচিত হলে আমার প্রথম দিকের অগ্রাধিকারগুলোর একটি হবে সমিতির নির্বাহী পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে ঋওঅ-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্ভাব্য অ্যাফিলিয়েশন বা সদস্যপদের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশি শিল্পীদের জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বৈশ্বিক পরিসরে কাজের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।’

নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আবির। তিনি বলেন, ‘ভোটের রাজনীতি নয়, কাজের সংস্কৃতি ফেরাতে এসেছি। ৩ জুলাই আপনারা আরমান-মুক্তি প্যানেলকে জয়ী করুন, আমি কথা দিচ্ছিÑ আমাদের শিল্পীদের কাজের পরিধি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেব।’