বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরে বিএফডিসির প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর। তবে এই নির্বাচনী আমেজের মাঝেই গত বুধবার রাতে আরমান-মুক্তি পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে নেমে এলো পিনপতন নীরবতা, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় এক আবেগঘন মুহূর্তে। ঢালিউডের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম তার মেয়ে চিত্রনায়িকা রুমানা ইসলাম মুক্তির জন্য ভোট চাইতে এসে প্রকাশ্যেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
চিত্রনায়িকা মুক্তি এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জানা গেছে, মুক্তি নিজে থেকে এই নির্বাচনে আসতে চাননি; বরং তার মা আনোয়ারার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা, সাধারণ সদস্যদের আগ্রহ এবং মায়ের স্বপ্নপূরণ করতেই তিনি এবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে পর্দার আড়ালে থাকা এই মায়ের একটাই চাওয়াÍতার মেয়ে যেন চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করতে পারে।
প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানের মঞ্চে যখন প্রবীণ অভিনেত্রী আনোয়ারাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাইক্রোফোন দেওয়া হয়, তখন তিনি পুরোনো দিনের স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এফডিসির সঙ্গে তার জীবনের বহু বছরের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে মেয়ের জন্য সবার কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করার সময় তিনি আর নিজের কান্না চেপে রাখতে পারেননি। মাইক্রোফোনের সামনেই তিনি ডুকরে কেঁদে ওঠেন এবং বলেন, ‘আমার মেয়ে আপনাদেরই বোন, মেয়ে এবং সহকর্মী। ও আমার স্বপ্নপূরণ করতে এখানে এসেছে। আপনাদের জন্য কাজ করতে চায়। আপনারা ওকে ফিরিয়ে দেবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার অস্তিত্ব আমার মেয়ে। মুক্তি শিল্পীদের জন্য কতটা উপযুক্ত তা আপনারা নিশ্চয়ই মুক্তির কাজের মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রমাণ পেয়েছেন। আশা করি, আমার শিল্পী সমিতির ভালোবাসার মানুষেরা মুক্তিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। সবাই আরমান-মুক্তি প্যানেলের সঙ্গে থাকবেন। আমার মেয়েকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া। আমার মেয়ের বিজয় মানে আমার বিজয়। মুক্তি হারলে আমি হেরে যাবো। তাই আমার প্রাণের শিল্পীরা আমার সম্মান রাখবেন।’
আনোয়ারার মতো একজন গুণী অভিনেত্রীকে এভাবে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত কেউই নিজেদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তার এই আকুল আবেদন মুহূর্তের মধ্যেই পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য অভিনয়শিল্পী এবং তার মেয়ের প্যানেলের সদস্যরা দ্রুত আনোয়ারার পাশে এগিয়ে যান, তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত¡না দেওয়ার চেষ্টা করেন।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বা মারমুখী আচরণের বাইরে আনোয়ারার এই মাতৃত্বের টান এবং কান্না ভোটারদের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। মায়ের এই অশ্রুসজল আবেদন ভোটের মাঠে মুক্তির পক্ষে কতটা জোয়ার তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

