দীর্ঘ তিন দশক ধরে যিনি সেলুলয়েডের ফ্রেমে শুধুই স্নিগ্ধতা ছড়িয়েছেন, যার এক চিলতে হাসিতে বুঁদ হয়ে থেকেছে কোটি দর্শকÍতিনি ঢালিউডের চিরসবুজ নায়িকা পূর্ণিমা। কিন্তু রূপালি পর্দার সেই চিরচেনা ‘মিষ্টি মেয়ে’ এবার নিজের চেনা খোলসটি ভেঙে এক নতুন রূপের মায়াজালে জড়াতে চান। ক্যারিয়ারের এই বসন্তে এসে তিনি আর কোনো রাজকুমারী বা অনিন্দ্য সুন্দরী হতে চান না; বরং পর্দার আলো-ছায়ার খেলায় এবার তিনি হতে চান এক জাঁদরেল খলনায়িকা বা ‘ভিলেন’!
সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জন্মলগ্নে দাঁড়িয়ে জীবনের এই সুপ্ত এবং ব্যতিক্রমী আকাঙ্ক্ষার কথা অকপটে প্রকাশ করেছেন এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী। ১৯৯৮ সালে ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে যে নক্ষত্রের উদয় হয়েছিল, তার পুরোটা আকাশ জুড়েই ছিল প্রেম, বিরহ আর নিখাদ শুভ্রতা। ‘মনের মাঝে তুমি’ কিংবা ‘হৃদয়ের কথা’র মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয় যেন ছিল স্নিগ্ধ এক পাহাড়ি ঝরনা। কিন্তু দীর্ঘ আটাশ বছরের সেই চেনা স্রোত এবার মোড় নিতে চায় রুক্ষ, ধূসর কোনো গিরিখাতের দিকে।
পূর্ণিমা মনে করেন, একজন খাঁটি অভিনেত্রীর সার্থকতা লুকিয়ে আছে নিজেকে বারবার ভাঙা আর গড়ার খেলায়। তাই ওটিটি আর উপস্থাপনার মঞ্চ মাতিয়ে এবার বড় পর্দায় এক তীব্র নেতিবাচক চরিত্রে নিজেকে সঁপে দিতে চান তিনি।
অভিনয়জীবনে দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা আর করতালি তো কম পাননি পূর্ণিমা। তবে এবার তার তৃষ্ণা একটু ভিন্ন, একটু বেশিই বৈচিত্র্যময়। নিজের এই নতুন ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছা খলনায়িকা বা ভিলেন টাইপ চরিত্রে অভিনয় করার। পর্দায় এমন একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাই, যার প্রতি মানুষের তীব্র ঘৃণা তৈরি হবে।’
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, একজন জাত শিল্পীর কাছে এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যে দর্শক এতদিন তার দুঃখে কেঁদেছে, তারা যেন এবার তার পর্দার নিষ্ঠুরতা দেখে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়Íএই ভিন্নধর্মী ভালোবাসাই কুড়াতে চান তিনি।

