যশোর-খুলনা ব্যস্ততম মহাসড়কের রাজঘাট থেকে বসুন্দিয়া পর্যন্ত অংশজুড়ে মহাসড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড। কোথাও সড়কের এক পাশ, আবার কোথাও দুই পাশজুড়ে সারি সারি মালবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কজুড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোড করা ও খালি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। কোথাও এক পাশে, কোথাও আবার দুই পাশেই ট্রাক পার্কিং করায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে সড়কের লেন কমে যাওয়ায় ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন। ফলে সড়কে প্রায় লেগে থাকছে যানজট, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের অভয়নগর উপজেলার ভাঙাগেটে একটি নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনাল থাকলেও অধিকাংশ ট্রাক সেখানে না গিয়ে মহাসড়কের ওপরই অবস্থান নেয়। এতে করে প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো দুর্ঘটনাও ঘটে। এ কারণে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী নাজির হোসেন বলেন, শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নওয়াপাড়ায় বহু ঘাট, গোডাউন এবং কয়লা, বালি ও সারের ড্যাম্প রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় মালামাল ওঠানামার সময় ট্রাকগুলো সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এতে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়।
তিনি আরও জানান, মহাসড়কসংলগ্ন নির্মিত ব্রিজ স্কেলগুলোরও আলাদা পার্কিং না থাকায় ওজন পরিমাপের জন্য ট্রাকের দীর্ঘ সারি মহাসড়কের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে, যা যান চলাচলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
বাসচালক বেলাল বলেন, সড়কের পাশে এমনভাবে ট্রাক রাখা হয় যে মাঝখান দিয়ে গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর। প্রতিদিনই ছোট-বড় জ্যামে পড়তে হয়। এতে আমাদের সঙ্গে যাত্রীদেরও মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সড়কের দুপাশে ট্রাক পার্কিং করার কারণ জানতে চাইলে ট্রাকচালক রিপন হোসেন বলেন, আমরা জানতাম না যে ঘাটে ট্রাক পার্কিংয়ের জায়গা নেই। উপায় না দেখে সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং করতে বাধ্য হয়েছি।
আরেক চালক নুর ইসলাম অপরাধ স্বীকার করে বলেন, আমার সিরিয়াল নাম্বার ৩১। আমার সামনে এখনো ২০টি ট্রাক। ট্রান্সপোর্টের লোকের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলুল করিম বলেন, ‘অবৈধ পার্কিং রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

