ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তিনজন ডাক্তার দিয়ে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটে ভুগছে। হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বর্তমানে মাত্র তিনজন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করছে। এ কারণে হরিপুর উপজেলার গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাসপাতালে গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার না থাকার কারণে প্রায় দেড় যুগ ধরে সিজারের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে থাকা মূল্যবান সরঞ্জাম ও উপকরণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলার প্রায় পোনে দুই লাখ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

হাসপাতাল সূত্র জানা যায়, সরকারি চিকিৎসকের পদ ১৯টি হলেও বর্তমানে মাত্র তিনজন ডাক্তার রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। ১৪টি পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। কমসংখ্যক চিকিৎসক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে গর্ভবতী মায়েরা সিজারের জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বাড়তি খরচ ও হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ ছাড়া শিশু ডাক্তার না থাকায় শিশুদের চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরাও সন্তোষজনক চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হরিপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীর সেবা দিতে কঠিন হচ্ছে। হাসপাতালের জনবহুল পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ডাক্তার পদগুলো পূরণ করা জরুরি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমুজ্জামান জানান, কাগজে কলমে হাসপাতালে পাঁচজন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও বর্তমানে মাত্র তিনজনই দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালের জনবল সংকট ও সার্বিক পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করা হয়েছে।