বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুরে নাগরনদের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে আছেন ২১ গ্রামের মানুষ। বাঁশের তৈরি নড়বড়ে একটি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন তারা। একমাত্র ভরসা এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ শত শত সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন।
তবে ওই সাঁকো দিয়ে শিশু ও বৃদ্ধারা চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এ কারণে নাগরনদের ওপর সাঁকোর স্থলে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চাঁপাপুরের কয়াকুঞ্জি ও দক্ষিণ এলাকার কয়েকটি গ্রাম এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার পারঘাটা, পারশন, জামালপুর, বনগ্রাম, ইরিহারা বাঁশোগ্রামসহ প্রায় ২১টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো। সাঁকোটি ব্যবহার না করলে নদীর পূর্ব পাশের মানুষকে উপজেলা সদরে পৌঁছাতে হলে ঘুরতে হয় তিন থেকে চার কিলোমিটার। সাঁকোর স্থানে সেতু নির্মাণ করা হলে ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি মানুষ দুই উপজেলায় সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।
দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এখানে একটি সেতু নির্মাণ ছিল এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। বর্তমানে এই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পারাপার হচ্ছেন। নড়বড়ে এই সাঁকোটি পার হতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে বৃদ্ধা ও শিশুদের। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও সেটি আজো পূরণ হয়নি।
এদিকে স্থানীয় জনতা প্রতিবছরই নিজস্ব অর্থে নতুন বাঁশ কিনে নড়বড়ে ওই সাঁকো মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করে থাকেন। নদীর পশ্চিম পাশে রয়েছে চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও হাটবাজার। সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও মঙ্গলবার বসে বৃহৎ আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর হাট। এ কারণে পূর্ব পাড়ের মানুষ সাঁকোটি বেশি ব্যাবহার করে থাকেন।
শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, আবু তালহা, শিফা খাতুন ও সুরভী জানায়, বাঁশের তৈরি নড়বড়ে এই সাঁকোর ওপর দিয়ে বিদ্যালয়ে ঝুঁকি নিয়ে আমরা চলাচল করি। কয়েকদিন আগে পারঘাটা গ্রামের আলামিন হোসেন চাঁপাপুর হাট থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাঁকোর ওপর থেকে পড়ে অল্পের জন্য বেঁচে যান। তবে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি হলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলী জানান, স্বাধীনের পর থেকে চাঁপাপুরে নাগর নদের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন এলে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির শেষ থাকে না। পরে নির্বাচন শেষ হলে এখানে সেতু নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। আদমদীঘি ও নন্দীগ্রামের দুই উপজেলার প্রায় ২১ গ্রামের শত শত মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের এই সাঁকো।
চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু জানান, বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, অসুস্থ রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পারাপার হয়। এলাকাবাসী প্রতিবছর নিজ উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করে থাকেন। এলাকার উন্নয়ন আর জনগণের দুর্ভোগ কমাতে বাঁশের সাঁকোর স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার অবগত করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন