রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চতরা হাটের ৯ একর ৮০ শতক জমির প্রায় পুরোটাই এখন প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। হাটের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নির্দেশনা এবং ইজারা প্রক্রিয়ার ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকলেও তা উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসন নতুন করে দরপত্র আহ্বান করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একসময়ের জমজমাট চতরা হাটের অধিকাংশ জমি দখল করে প্রভাবশালীরা বাড়িঘর ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে। বর্তমানে ৯ একর ৮০ শতক জমির মধ্যে মাত্র ২ একর জায়গায় কোনোমতে হাট বসছে। সংকীর্ণ অলিগলিতে কেনাবেচা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। বাকি বিশাল এলাকা এখন প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার একটি অসাধু চক্র হাটের অলিগলিতে প্রায় ৩৫০টি দোকানঘর নির্মাণ করে নিয়মিত ভাড়া আদায় করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে হাটের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করেছিল। এরপর হাটের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি রাজস্ব কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও দখলদারদের প্রতিযোগিতায় ছোট হয়ে আসে হাটের পরিধি। বিগত ১৪৩১ বঙ্গাব্দে ভ্যাটসহ প্রায় ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে হাটটি ডাক নেন হাবিবুর রহমান হাবিব। কিন্তু হাটের জায়গা দখলে থাকায় তিনি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েন।
ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ চেয়ে ইজারাদার হাবিবুর রহমান হাবিব হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন এবং উচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত হাটের নিলাম ডাক স্থগিত রাখার আদেশ প্রদান করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, হাইকোর্টের এই সুস্পষ্ট নির্দেশ উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পীরগঞ্জের অন্যান্য হাটের সঙ্গে ২০২৬ সালের দরপত্র আহ্বান করেছেন।
ইজারাদার হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘প্রভাবশালীরা হাটের জমি দখল করে দোকানঘর ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। হাটের জায়গা না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা অলিগলিতে বসতে বাধ্য হচ্ছেন। আমি আমার লোকসান এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।’
ঐতিহ্যবাহী চতরা হাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি রাজস্ব রক্ষায় অতি দ্রুত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে হাটের সীমানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন জানান, চতরা হাটের ইজারা বা ডাক বন্ধের কোনো কাগজপত্র আমি এখনো হাতে পাইনি। যদি আমার কাছে কোনো কাগজ আসে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

