ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জ্বালানি সংকটে অচল তালতলী

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১২:১৩ এএম

বরগুনার তালতলী উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে যান চলাচল। পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চালক ও শ্রমজীবী মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই উপজেলার বিভিন্ন বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার থেকে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। চালকেরা তেলের আশায় এক বাজার থেকে আরেক বাজারে ছুটেও কাক্সিক্ষত জ্বালানি পাচ্ছেন না।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মো. আরিফ বলেন, কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাচ্ছি না। গাড়ি নিয়ে বের হলেও তেল না পেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। কোনো আয় নেই। অসুস্থ বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকার অবস্থা হবে।

স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী হারুন ফরাজি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। গত পাঁচ দিন ধরে তেল প্রায় নেই বললেই চলে। দোকান খুলে বসে থাকলেও বিক্রি করার মতো তেল নেই। এতে আমরাও বেকার হয়ে বসে আছি এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।

তালতলী সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আ. হালিম সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বেকারত্ব বৃদ্ধি পেলে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং জরুরি সেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। তাই দ্রুত জ্বালানি সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তালতলী থানার ওসি আসাদুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোথাও যেন জনরোষ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। এতে শুধু যান চলাচল নয়, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকা-ও স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।