ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফসল রক্ষায় বাঁধ কাটলেন কৃষকেরা

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৬:১৬ এএম

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার বোরো ধান রক্ষার তাড়নায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টঙ্গী ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছেন কৃষকেরা। গত শুক্রবার দুপুরে টগার হাওরের জলাবদ্ধতা কমাতে জয়শ্রী ইউনিয়নের টঙ্গী বাঁধ কেটে দেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে টগার হাওরের পানি নিষ্কাশনের দাবিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন কৃষকরা। তবে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বাঁধ কাটার অনুমতি মেলেনি। এতে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে এবং অনেক স্থানে পচন ধরে।

পরিস্থিতির অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইকিং করে কৃষকদের বাঁধ কাটার আহ্বান জানানো হয়। এর পর শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা একত্রিত হয়ে টঙ্গী বাঁধ কাটতে শুরু করেন। বাঁধ কেটে দেওয়ায় টগার হাওরের পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধর্মপাশা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৯০ হেক্টর এবং মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই উপজেলায় অন্তত ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। টগার হাওরে প্রায় ২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হলেও এর মধ্যে ১৮০ হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাইল্যানি হাওরের ৫৯ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি সবুক্তগীন জানান, প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও তাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই কৃষকরা বাঁধ কাটতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষকদের দাবি, সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনা ও বিলম্বই তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া বাঁধ কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সুমেশ্বরী ও বৌলাই নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই বাঁধ কেটে দেওয়ায় ভবিষ্যতে নদীর পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, বাঁধটি কাটা ঠিক হয়নি।