ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সালিশে অপমান-নির্যাতন সইতে না পেরে তরুণীর আত্মহত্যা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গ্রাম্য সালিশে শারীরিক নির্যাতন ও চরম অপমানের গ্লানি সইতে না পেরে নাজমা আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর কাশাদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমা শিবালয় মডেল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কাশাদহ গ্রামের খালেক পেয়াদার মেয়ে। তিনি একটি তালা তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমার ব্যক্তিগত একটি সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলে গত শুক্রবার রাতে তার বাবার বাড়িতে গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। স্থানীয় মাতবর আজিজ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নাজমা ও এক যুবককে অভিযুক্ত করে সবার সামনে হাজির করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিশ চলাকালে মাতবরদের নির্দেশে নাজমা ও ওই যুবককে দীর্ঘ সময় ধরে কিল-ঘুসি, লাথি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। উপস্থিত সবার সামনে এই অপমান ও মারধরের ঘটনায় নাজমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নির্যাতনের একটি ভিডিও চিত্রও স্থানীয়দের হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পরদিন শনিবার নাজমা কর্মস্থলে গেলেও বিকেলে বাড়ি ফিরে আসেন এবং সন্ধ্যার দিকে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নাজমার মা নাসিমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবার সামনে মাতবররা আমার মেয়েটাকে পশুর মতো মারধর করেছে। এই বেইজ্জতি সে সহ্য করতে পারেনি। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সালিশের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো মাতবররা প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকে ভয়ে মুখ খুলছেন না। এ ছাড়া, গ্রাম্য সালিশের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন তরুণীকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দেওয়ার এই ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

খবর পেয়ে শিবালয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।