কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হলেও শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরাঞ্চলের ২৬৩ জন কৃষকের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফলে কৃষকদের মুখে এখন হতাশার ছাপ। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, চিনা, শাক-সবজি, মরিচ, পেঁয়াজ ও কালোজিরা। এর মধ্যে মরিচ ও পেঁয়াজ চাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শিলাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, মাইলের পর মাইল সবুজ ফসলের সমারোহ। বাদাম, চিনা, তিল, তিশি, পেঁয়াজ ও মরিচ খেতে ভরে আছে চরের বুক। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র। চর গতিয়াসাম এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ (৬৫) বলেন, ধার-দেনা করে ১২ হাজার টাকা খরচে ৯ শতক জমিতে মরিচ চাষ করেছি। এখনো খরচই ওঠেনি। তার ওপর শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টিতে অনেক গাছ পচে গেছে। তার স্ত্রী আনোয়ার বেগম (৫০) বলেন, মরিচ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে মরিচ ও পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক কৃষক ভালো দাম পেয়েছিলেন। তবে অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় একযোগে অপরিপক্ব মরিচ বাজারে তোলায় হঠাৎ দরপতন ঘটে।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফন্নাহার সাথী বলেন, তিস্তার চরে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু ক্ষতি হলেও কৃষকেরা তাদের পরিশ্রম দিয়ে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

