ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত পোল্ট্রি খামার

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৬:৪২ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবনের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোল্ট্রি খাত। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে খরচ এবং কমছে আয়। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে মুরগির বাচ্চা লালন-পালনে চরম সমস্যা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখা না যাওয়ায় অনেক বাচ্চা মারা যাচ্ছে।

নবীনগরের তরুণ খামারি মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমাদের খামারে দুই দিন আগে আনা বাচ্চাগুলো ঠিকমতো তাপ দিতে পারছি না। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার দুই ঘণ্টা থাকে না। এতে বাচ্চাগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খরচ বাড়ছে কিন্তু আয় কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

উপজেলার আরও কয়েকজন খামারি জানান, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে মুরগি স্টক করা, ব্রুডিং পরিচালনা এবং খামারের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেকেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এ বিষয়ে নবীনগর পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম আবু ছায়েম বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আশা করি অচিরেই এর সমাধান হবে।’ খামারিরা বলছেন, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে এ অঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। তারা নবীনগরকে লোডশেডিংমুক্ত এলাকা ঘোষণা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পোল্ট্রি খাতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।